৩৬নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার তিতাসে মেঘনা নদীর তীরবর্তী চর দখল করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে টেটাযুদ্ধ, সংঘর্ষ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীসংলগ্ন চরের মালিকানা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেঘনা উপজেলার আলীপুর এবং তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৌকাযোগে এসে তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় চরবাটেরা গ্রামের বাসিন্দারাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষ টেটা, দা ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
চরবাটেরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী বিনতপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন ঢাল-টেটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নদী পেরিয়ে আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা ব্যাপক দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আহতদের অধিকাংশই ইটপাটকেলের আঘাতে জখম হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়ি ফিরলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মেঘনা থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, দুই থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
টিএইচএ/
