‘আবু সাঈদ বাড়ি ফিরেই আমাকে মা বলে ডাক দেবে’

|| মুহিম মাহফুজ ||

by Fatih Work

৩৬নিউজ বিশেষ প্রতিবেদন>>

রংপুর জেলার পীরগঞ্জের বাবনপুর নামক প্রত্যন্ত পল্লীর এক দরিদ্র পরিবারে শহিদ আবু সাঈদের জন্ম। ৯ ভাই-বোনের সংসারে কেবল তারই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিলো। ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র।

বিজ্ঞাপন
banner

দারিদ্রের কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যখন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছিলো, তখন এগিয়ে এসেছে আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মেধাবী আবু সাঈদ তাদের হতাশ করেননি। মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন ।

আবু সাঈদকে নিয়ে হাজারও স্বপ্ন দেখতেন তার বাবা-মা। ভাবতেন, পড়াশোনা শেষ করে ছেলে একদিন তাদের দুঃখের সংসার আনন্দে ভরিয়ে দেবে। তবে হঠাৎই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় গত ১৬ জুলাই। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দিয়ে বীরের মতো শহিদ হন আবু সাঈদ। সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত। শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আবু সাঈদ হয়ে ওঠেন অভ্যুত্থানের মহানায়ক, ছাত্র-জনতার বিপ্লবী আদর্শ। আবু সাঈদের স্মরণে বিপ্লবী ছাত্র-জনতার মুখে মুখে এখনো এ শ্লোগান রাজপথে আগুন জ্বালায়-

‘বুক পেতেছি গুলি কর/বুকের ভেতর দারুণ ঝড়’

গণঅভ্যুত্থানের আইকনিক শহিদ ছেলে আবু সাঈদকে এখনো খুঁজে ফেরেন তার বাবা। ছেলের শোকে হতবিহ্বল এখনো। ছেলের কবরের পাশেই কেটে যায় তার দিন। কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মসজিদে যান, ছেলের জন্য দুহাত তুলে দোয়া করেন।

মকবুল হোসেন বলেন, ‘সাঈদ পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলো। স্বপ্ন দেখতো, বড় হয়ে অফিসার হবে।’

ছেলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার  এখনও বিশ্বাস হতে চায় না, সাঈদ বেঁচে নেই। সবসময়ই মনে হয়, ও কলেজে আছে। বাড়ি ফিরেই আমাকে মা বলে ডাক দেবে।’

নিজের টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে গত ঈদে সবার জন্য উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। পরিবারের জন্য এমনই ছিলো তার দায়িত্বশীলতা। আর দেশের জন্য যে কী বিপুল ভালোবাসা ছিলো তার বুকে, আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাঈদ তার অনন্য নজির রেখেছেন।

ছোট বোন সুমী খাতুন বলেন, আজ আমার ভাইয়ের কবর জিয়ারত করতে অনেক গণ্যমান্য মানুষ আসেন। তারা আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করেন। আমাদের কষ্ট হলেও ভাইয়ের জন্য আমরা গর্বিত।’

সহপাঠীদের থেকে জানা যায়, নম্র স্বভাবের আবু সাঈদ সহপাঠীদের অত্যন্ত প্রিয় ছিল। সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে আবু সাঈদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান আসিফ আল মতিন বলেন, ‘ছাত্র তো সবাই। তবে কিছু ছাত্র এমনভাবে মন জয় করে নেয়, তাদের ভোলা যায় না, আবু সাঈদ ছিল তেমনি একজন।’

বর্তমান সরকারের কাছে তার পরিবার দাবি জানান, শহিদ আবু সাঈদের নামে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেনো একটি করে হল নির্মাণ করা হয়। পীরগঞ্জে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতাল নির্মাণেরও দাবি জানান তারা, সেখানে পীরগঞ্জের দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।

এমএনএকে/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222