আইপিএলের মঞ্চে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন হরভজন সিং। ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটার জফরা আর্চারের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন তিনি। তার এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেননি ক্রিকেটপ্রেমীরা। শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ধারাভাষ্যের দায়িত্বে থেকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) শাস্তি দিতে পারে হরভজনকে। আইপিএলের ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকে বাদও পড়তে পারেন তিনি।
ইতোমধ্যেই ধারাভাষ্যকারদের প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন ইরফান পাঠান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত রাগ থেকে ক্রিকেটারদের নিশানা করেন তিনি। এবার তার পথ ধরতে পারেন হরভজনও।
জানা গেছে, রোববার (২৩ মার্চ) রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৮৬ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন ইংলিশ পেসার আর্চার। চার ওভাবে ৭৬ রান দিয়েছেন তিনি। আইপিএলের ইতিহাসে এটাই এখন এক ম্যাচে সর্বাধিক রান দেওয়ার রেকর্ড।
আর্চারের বোলিংয়ের সময় ধারাভাষ্যের দায়িত্বে ছিলেন হরভজন। আর্চারকে মার খেতে দেখে তিনি বলেন, ‘লন্ডনে কালো ট্যাক্সির মিটার যেমন চড়চড় করে বাড়ে, তেমনই এখানে আর্চারের মিটার চড়চড় করে বাড়ছে।’
হরভজনের এই ‘কালো ট্যাক্সি’ মন্তব্য নিয়েই পরে তোলপাড় শুরু হয়। ইংল্যান্ডের কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটার আর্চারকে ব্যঙ্গ করে তিনি এই উদাহরণ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন নেটিজেনরা।
খেলাধুলায় এখন বর্ণবিদ্বেষ খুব বড় অপরাধ। ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, কারও বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হয়। কোনো প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগে আয়োজকেরা স্পষ্ট বার্তা পাঠান, কোনোভাবেই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য বরদাশত করা হবে না।
এই বিতর্ক নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি হরভজন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও কিছু জানায়নি। তবে যদি রাজস্থান কোনো অভিযোগ করে বা বিতর্ক বাড়তে থাকে, সে ক্ষেত্রে বিসিসিআই হরভজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
হরভজনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে হরভজনের বিরুদ্ধে। তখন তাকে শাস্তিও পেতে হয়েছিল। ওই ঘটনা ‘মাঙ্কিগেট’ নামে পরিচিত।
এআইএল/
