বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-এর আরবি ভাষা (আদব) বিভাগে ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতা’।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরবি ভাষায় বিষয়ভিত্তিক মুহাদারা, ইনতিবা, প্রবন্ধ ও কবিতা পাঠ, উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং আরবি ভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ও করণীয় শীর্ষক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরবি ভাষা বিভাগের মুশরিফ মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়েখ মুজিবুর রহমান কাসেমী। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সালিম ও মাওলানা কাউসার আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী রচিত আরবি ভাষা বিষয়ক একটি বিশেষ প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। এরপর আদব বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘আরবি ভাষা বনাম ইংরেজি ভাষা’ শীর্ষক আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরবি মুহাদারা, ইনতিবা, নির্বাচিত কবিতা পাঠ এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আরবি ভাষা বিভাগের উস্তাযগণ এ সময় আরবি ভাষা দিবসের তাৎপর্য ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন।
এ বছর আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “আরবি ভাষার উদ্ভাবনী পথ: আরও ব্যাপক অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাষা—ভবিষ্যতের নীতিমালা ও চর্চা অবলম্বন”। প্রতিপাদ্যের আলোকে উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এবং শিক্ষা ও গণমাধ্যম—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
আলোচনায় মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী বলেন, “আরবি ভাষা কোনো জাদুঘরের বস্তু নয়; এটি এক জীবন্ত শক্তি। চর্চার মধ্য দিয়েই ভাষা প্রাণবন্ত থাকে। ভাষা বেঁচে থাকলে ইতিহাস, চেতনা ও পরিচয়ও বেঁচে থাকে।” তিনি আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে বলেন, কুরআন ও হাদিস আরবি ভাষার মূল উৎস হওয়ায় কেয়ামত পর্যন্ত এ ভাষা সংরক্ষিত থাকবে এবং আরবি ভাষা আজও বিশ্বের অন্যতম জীবন্ত ও প্রচলিত ভাষা।
শায়েখ মুজিবুর রহমান কাসেমী বলেন, “আরবি ভাষা দিবসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপক পরিসরে আরবি ভাষার চর্চা এগিয়ে নিতে হবে। আরবি ভাষার আওয়াজ বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সালিম বলেন, “আরবি ভাষা শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; এটি চিন্তার ভাষা ও হৃদয়ের ভাষা। যে শিক্ষার্থী এ ভাষাকে ভালোবাসে ও ব্যবহার করে, সে একটি ভাষার পাশাপাশি একটি সভ্যতার উত্তরাধিকার বহন করে। তাই আরবিকে পড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনের ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি ভাষা চর্চা ও গবেষণার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাআমা/
