বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীর হজে মাহরাম কে হবেন?

by Fatih Work

ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ হলো পবিত্র হজ করা। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ হলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই ইবাদত পালনে ‘মাহরাম’ থাকা শরয়িভাবে একটি অপরিহার্য শর্ত। বিশেষ করে বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ফিকহি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। শরয়ি পরিভাষায় মাহরাম বলতে সেই সব পুরুষকে বোঝায় যাদের সঙ্গে একজন নারীর বিবাহ বন্ধন চিরতরে হারাম। যেমন- পিতা, ছেলে, ভাই, নাতি, ভাতিজা, ভাগ্নে, চাচা, মামা, জামাতা কিংবা দুধসম্পর্কীয় পিতা ও ভাই। যদিও স্বামী শরয়ি সংজ্ঞানুযায়ী মাহরাম নন, তবে হজের সফরের ক্ষেত্রে তিনি মাহরামের স্থলাভিষিক্ত এবং প্রধান সফরসঙ্গী হিসেবে গণ্য হন।

হাদিসের আলোকে মাহরামের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার পিতা, ছেলে, স্বামী, ভাই বা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিন দিন বা তার অতিরিক্ত সময়ের পথ সফর করা বৈধ নয়। এমনকি অন্য এক হাদিসে দেখা যায়, এক ব্যক্তি জিহাদে যাওয়ার সংকল্প করলেও তার স্ত্রী হজে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করায় নবীজি (সা.) তাকে জিহাদ বাদ দিয়ে স্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার নির্দেশ দেন। হজের এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সফরে নিজের সন্তান বা আপন ভাইকে মাহরাম হিসেবে পাওয়া সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও উত্তম বলে বিবেচিত হয়, কারণ তাদের সঙ্গে পর্দার কঠোরতা ও সেবা পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। তবে সফরসঙ্গী মাহরামকে অবশ্যই মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

বিধবা ও তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ক্ষেত্রে হজে যাওয়ার আগে ইদ্দত পালনের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা জরুরি। বিধবা নারীদের জন্য ৪ মাস ১০ দিন এবং তালাকপ্রাপ্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইদ্দত চলাকালে হজে যাওয়া বৈধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীরা তাদের বোন বা ভগ্নিপতির সঙ্গে হজে যেতে চান, কিন্তু ইসলামি বিধান মতে ভগ্নিপতি মাহরাম নন। তেমনি বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা পরপুরুষের সঙ্গেও মাহরাম ছাড়া হজের সফর শরয়ি দৃষ্টিতে অনুমোদিত নয়। যদি কোনো নারীর ওপর হজ ফরজ হয় অথচ মাহরাম না থাকে, তবে তাকে মাহরাম পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে অথবা প্রয়োজনে নিজের খরচে মাহরামকে সঙ্গে নিতে হবে। বার্ধক্য বা শারীরিক অক্ষমতা দেখা দিলে তিনি ‘হজে বদল’ করাবেন অথবা অসিয়ত করে যাবেন।

বর্তমান সময়ে প্রশাসনিকভাবে গ্রুপ হজের সুযোগ থাকলেও শরয়ি বিধান অপরিবর্তিত রয়েছে। ফিকহি দৃষ্টিতে মাহরাম ছাড়া হজে গেলে হজ আদায় হয়ে গেলেও মাহরামবিহীন সফরের কারণে গুনাহগার হতে হয়। অনেকে প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে “ভুয়া মাহরাম” সাজিয়ে হজে যান, যা স্পষ্ট মিথ্যাচার ও গুনাহের কাজ বলে গণ্য হয়। মূলত নারীর নিরাপত্তা, শালীনতা ও ইবাদতের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতেই ইসলাম এই বিধান নির্ধারণ করেছে। তাই সামর্থ্যবান নারীদের উচিত বিলম্ব না করে যথাসম্ভব সঠিক শরয়ি নিয়ম মেনে মাহরামসহ হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। প্রয়োজনে কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নিয়ে ইবাদতের পূর্ণতা নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222