আগামী ১১ জুন পর্দা উঠতে যাচ্ছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের। প্রতি আসরের মতো এবারও মাঠে মূল খেলা গড়ানোর আগেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। এই উন্মাদনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রির বাজারগুলো। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় স্পোর্টস শোরুম, সবখানেই এখন শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন দেশের রঙিন পতাকা ও জার্সি। আকাশি-সাদা কিংবা হলুদ-সবুজের চিরচেনা রঙে সেজেছে গুলিস্তানের পাইকারি বাজার ও ফুটপাতের পসরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাত ও স্পোর্টস মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা যেমন পাইকারি জার্সি কিনতে এসেছেন, তেমনি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও ভিড় করছেন নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি সংগ্রহ করতে।
গুলিস্তানের স্পোর্টস মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাত ও শোরুমে সারি সারি করে সাজানো রয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডসহ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের আকর্ষণীয় জার্সি। ফুটপাতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে সাধারণ মানের জার্সি পাওয়া গেলেও শোরুমগুলোতে ৫০০ টাকার নিচে কোনো জার্সি মিলছে না। অন্যদিকে থাইল্যান্ড বা উন্নতমানের জার্সির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন দোকানিরা। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, সারা দেশ থেকে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মূল্যে জার্সি নিতে আসায় দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। সব দলের জার্সির চাহিদা থাকলেও বাজারে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। তবে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জার্সির দামও সাধারণ সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
লালবাগ থেকে দুই নাতনির জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে আসা মো. সেলিম হোসেন নিজের পারিবারিক ফুটবল আবেগের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং তার দুই নাতনিও একই দল পছন্দ করে। তাই তাদের জন্য জার্সি কিনতে এসেছেন। তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারে বিশ্বকাপ এলেই আলাদা এক উন্মাদনা তৈরি হয়। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে ব্রাজিলের সমর্থক হলেও তিনি ও তার নাতনিরা আর্জেন্টিনার কট্টর ভক্ত। অন্যদিকে জুরাইন থেকে আসা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাহিন নিজের ও ছোট ভাইয়ের জন্য জার্সি কিনতে এসেছে। সে জানায়, নিজের জন্য আর্জেন্টিনার জার্সি কিনলেও ছোট ভাই আবিরের জন্য সে ব্রাজিলের জার্সি কিনেছে।
নরসিংদীর মনোহরদী থেকে পাইকারি জার্সি কিনতে আসা ব্যবসায়ী সুমন জানান, গ্রামাঞ্চলে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এর বাইরে স্পেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের জার্সিও কিছুটা বিক্রি হয়। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতি পিস জার্সি এবার ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাদের। ফুটপাতের বিক্রেতা আব্দুল মান্নান জানান, তার কাছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জার্সি রয়েছে এবং বর্তমানে বিক্রি বেশ ভালো। খেলা যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রি তত বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের সালমান স্পোর্টসের বিক্রেতা নূরে আলম মিয়াজি বলেন, সারা দেশ থেকেই খুচরা বিক্রেতারা আমাদের কাছে আসছেন। এখানে পাইকারিভাবে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামের জার্সি বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বকাপের কারণে বর্তমানে প্রতিটি জার্সি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে এবং অন্যান্য দলের তুলনায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির বিক্রি কয়েকগুণ বেশি।
টিএইচএ/
