আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
আজ শনিবার (৬ জুন) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ঘটনার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, রাত ১টা ৩০ মিনিটে চারটি তেলবাহী ট্যাংকার, যেগুলোকে আক্রমণাত্মক মার্কিন সেনাবাহিনী উসকানি ও নির্দেশনা দিয়েছিল, তারা আইআরজিসি নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এবং কোনো প্রকার সমন্বয় ছাড়াই অবৈধভাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ত্যাগের চেষ্টা করে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, চূড়ান্ত সতর্কবার্তার পর একটি ট্যাংকারকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্য লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলো পিছু হটে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিটে মার্কিন ড্রোন ইরানের কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং সিরিক এলাকার আরেকটি টাওয়ারে দুটি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই আগ্রাসনের জবাবেই আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী দ্রুত কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে একটি ছিল আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি।
পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও সফল হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, এই আগ্রাসী শত্রু যদি এ ধরনের নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করে, তবে তাদের প্রতিক্রিয়া আর কোনো সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাহত হলে তার সমস্ত পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করে, কিছুক্ষণ আগে সেন্টকম বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ইরানি একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালায়। তারা আরও দাবি করে, আত্মরক্ষার স্বার্থে তথাকথিত অযৌক্তিক ইরানি আগ্রাসনের জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির এক প্রতিবেদক জানান, শনিবার রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে সিরিক শহরে কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে, যা তাদের পূর্ববর্তী হামলার প্রায় আট মাস পর সংঘটিত হয়। এর জবাবে ইরানও দ্রুত ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে। সংঘাত শুরুর ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে যে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হবে।
টিএইচএ/
