মানজুম উমায়ের :: ১৯৭৩ সালে ঝিনাইদহের হাজরাতলা গ্রামে আইনুদ্দীন আল আজাদ জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের মকতবে তার পড়ালেখা শুরু। এরপর স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে ঝিনাইদহ শহরের কাস্টসাগরা দাখিল মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। আলিম ও ফাজিল সমাপ্ত করেন ছারছীনা মাদরাসায়। এরপর ঢাকা আলিয়া থেকে কামিল পাশ করেন শূন্যদশকের সাড়া জাগানো এই মরমী শিল্পী। সবশেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা-সাহিত্যে অনার্স সমাপ্ত করেন তিনি।
কিংবদন্তী আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ.-এর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন চরমোনাইর পির সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল করীম রহ.। তার অনুপ্রেরণায় আজাদ ইসলামি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। দেশজুড়ে অপসংস্কৃতি ও যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে তিনি ইসলামি সংগীত লিখে, সুর বসিয়ে তা নিজ কণ্ঠে গেয়ে প্রচার করতে শুরু করেন। এসব হামদ/নাত/তারানা শুনে অল্প সময়েই দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত তৈরি হয়ে যায়। তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ সাংস্কৃতির ভিত গড়ে তুলতে ২০০৪ সালের ২৮ মে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কলরব’, যাতে সারা দেশের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
২২টি ইসলামি গানের অ্যালব্যাম প্রকাশিত হয়েছে গুণী এই শিল্পীর। এসব অ্যালবামের গ্রাফিক্স, ডিজাইন ও প্রচ্ছদ তিনিই করতেন। নামাজের বিষয়ে আইনুদ্দীন আল আজাদ বিশেষ যত্নবান ছিলেন। সফরে তাকে অনেক সময় কাটাতে হতো। তা সত্ত্বেও নামাজের ব্যাপারে তিনি যত্নবান থাকতেন। তিনি ছিলেন সদাহাস্যময়। অপরিচিতকে আপন করে নিতে তার বিলম্ব হতো না। ২০১০ সালের ১৮ জুন নাটোরের লালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি পৃথিবী ত্যাগ করেন।
আইনুদ্দীন আল আজাদ এর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক ইসলামী হামদ/নাত মাহফিলও আয়োজন করা হয়েছে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। একসময়ের বিশ্বকাঁপানো পপ তারকা জুনাইদ জামশেদ নাতে রাসূল সা. গাইতে বাংলাদেশে ছুটে আসেন। তিনিও বিমান দুর্ঘটনায় সস্ত্রীক ইন্তেকাল করেন। ২০০৮ সালের সেই ইকরা ও কলরব আয়োজিত আন্তর্জাতিক হামদ/নাত মাহফিল বাংলাদেশে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল।
আজ কলরব আছে। আরো ভালো কাজ করছে। কিন্তু নেই আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ.। আল্লাহ তাআলা তার কবরকে নূর দিয়ে ভরপুর করে দিন।
