৩৬নিউজ ডেস্ক: জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মনিরের ব্যক্তিগত চেম্বারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে দুটি পাইপগান, চার রাউন্ড গুলি, ছয়টি ককটেলসদৃশ বস্তু, দুই বোতল পেট্রোল ও ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ে মনোয়ারা আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ওই আইনজীবী কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জামালপুর সদর থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় চেম্বারটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া মেনে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশিতে কক্ষের ভেতর থেকে দুটি দেশীয় পাইপগান, চার রাউন্ড তাজা গুলি, ছয়টি ককটেলসদৃশ বস্তু, দুই বোতল পেট্রোল এবং ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত জব্দ করে পরীক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত পাড়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি, ককটেল ও বিদেশি মদের বিষয়ে পুলিশের গভীর তদন্ত চলছে। এসব নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক সামগ্রী সেখানে কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, কারা এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুদ করেছে এবং এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো অপরাধী চক্র জড়িত কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া ককটেলসদৃশ বস্তুগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করে সেগুলোর বিস্ফোরক ক্ষমতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর উৎস এবং এগুলো কোনো নাশকতামূলক অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানে জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম নূর মোহাম্মদ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আব্দুল কাইয়ুমসহ পুলিশের একটি চৌকস দল অংশ নেয়। এদিকে চেম্বার থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মনিরের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
