৩৬নিউজ ডেস্ক: রাতভর টানা বৃষ্টিতে কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে অবশেষে স্বস্তি মিলেছে খুলনাবাসীর জনজীবনে। তবে মুষলধারে এই বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র যানবাহনচালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। খুলনা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নগরীর শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, রয়্যাল মোড়, দৌলতপুর, খালিশপুর ও টুটপাড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ফলে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। রয়্যাল মোড়ে ব্যাংকে কর্মরত পথচারী হোসাইন জানান, বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা হলেও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় অফিসে পৌঁছাতে অতিরিক্ত কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিনের মতো উপার্জনে বের হওয়া ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে ব্যাটারিতে পানি ঢুকে যান বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
অবশ্য নগরবাসীর সাময়িক যাতায়াত কষ্ট হলেও এই বৃষ্টিকে উপকূলীয় কৃষির জন্য মহান আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণ আমন চাষের বীজতলা তৈরিতে ব্যাপক সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এতে সেচ খরচ বহুলাংশে বেঁচে যাবে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার কিছু পেঁপে গাছের সামান্য ক্ষতি হওয়া ছাড়া সার্বিকভাবে এটি ক্ষতিকর নয়। কৃষকদের দ্রুত বীজতলা প্রস্তুতের তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিদর্শক কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা নিম্নাঞ্চলের পানি জমার স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে।
এদিকে নগরীর এই চিরচেনা সংকট নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বিশ্লেষণ করে জানান, জোয়ারের দরুন বৃষ্টির পানি দ্রুত রূপসা নদীতে নামতে না পারা এবং ড্রেন পরিষ্কারের অভাবই এর মূল কারণ। সমস্যা নিরসনে খাল-নালা উদ্ধার করে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
টিএইচএ/
