সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও চরম শিক্ষার্থী খরা দেখা দিয়েছে। একটি বড় শ্রেণিকক্ষে ফাঁকা বেঞ্চের মাঝে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে সামনে বসিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষিকা। পাশেই আরেকটি শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীই না থাকায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুভগাছা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
পঞ্চম শ্রেণিতে কাগজে-কলমে চারজন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও মাত্র দুজন উপস্থিত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে ক্লাস। তবে শিক্ষার্থী না থাকায় বন্ধ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুভগাছা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছয়জন অনুমোদিত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। অথচ তাদের বিপরীতে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ৫৪ জন। যার মধ্যে ১৮ জনই প্রাক-প্রাথমিকের শিশু। বাকি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি—এই পাঁচটি শ্রেণিতে মিলিয়ে রয়েছে মাত্র ৩৬ জন শিক্ষার্থী। শ্রেণিক্রম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ৯, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩, চতুর্থ শ্রেণিতে ১৪ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে মাত্র ৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষার্থীর এই সংকটময় পরিস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মোমেনা খাতুন বলেন, “এটি যমুনা নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা হওয়ায় জনসংখ্যা কমে গেছে। তাছাড়া মাত্র এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৮ থেকে ৯টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল গড়ে ওঠায় নতুন শিক্ষার্থী মিলছে না।”
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঐ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কমিটির আগামী সভায় উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
টিএইচএ/
