বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশন শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলের শীর্ষ নেতারা জানান, ১১ দলীয় জোট মূলত একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল। জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এই ঐক্যের বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচনোত্তর সময়ে জোটের কিছু কার্যক্রমে খেলাফত মজলিস অংশগ্রহণ করলেও এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে নতুন কোনো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা। সেই সঙ্গে জাতীয় সংসদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান সক্রিয় বিরোধী দলীয় ভূমিকা পালন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই কেন্দ্রীয় বৈঠকে বর্তমান সরকারের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পুরোপুরি উপেক্ষা করে সরকার নিজ স্বার্থে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। অথচ জনগণ এমন একটি কার্যকর সংস্কার চায়, যার মাধ্যমে দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার সব রাস্তা চিরতরে বন্ধ হবে।
বৈঠক থেকে জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জাতীয় সংসদে অনতিবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, জুলাই সনদ দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সরকারকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন। অধিবেশনে দলের নায়েবে আমীর, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় পর্ষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টিএইচএ/
