রাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে হুমকি ও রাকসু ভবনে হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

by Abid vs36

মো. রেজওয়ান (রাবি প্রতিনিধি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি, রাকসু ভবনে হামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় রাকসু ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নেতারা সাম্প্রতিক এসব ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশের জন্য ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর ভিপি। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুলাই সংস্কৃত বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী রাকসুর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে বলা হয়, একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহসিন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুহসিন তাকে চাকু দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং নিজের কাছে পিস্তল থাকার কথাও জানান। এই অভিযোগের পর ওই রাতেই প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে আনাস নামে এক ব্যক্তি অভিযুক্তের অভিভাবক পরিচয়ে উপস্থিত হয়ে প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। পরে প্রক্টর তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর আনাস সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও মামলা করার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২৭ জুলাই পুনরায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আনাস আবারও উপস্থিত হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডি ও রাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। রাকসুর দাবি, তার মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় এবং তিনি নিজেও অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে আনাস, ছাত্রদল নেতা শাফিন ও তাদের সহযোগীরা দলবদ্ধ হয়ে রাকসু ভবনে হামলা চালায়। এই হামলায় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আহত হন এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুল সাকিব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত হন।

রাকসু নেতারা জানান, হামলার ঘটনার পর আনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় রাকসু, হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ সেখানে অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের এই নীরবতার কারণেই ক্যাম্পাসে পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রাকসুর পক্ষ থেকে মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নারী শিক্ষার্থীকে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, রাকসু ভবনে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার, ঘটনার সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। রাকসু স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, নারী শিক্ষার্থীর প্রতি সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222