আমিরুল ইসলাম লুকমান>>
ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানকে জেরুজালেমে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে এ বছরও তাদের ‘পাম সানডে’ ধর্মীয় উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত করেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত সামরিক চেকপোস্টগুলোতে রবিবার (১৩ এপ্রিল) হাজারো খ্রিস্টানকে আটকে দেওয়া হয়, যারা প্রাচীন গির্জাগুলোতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।
আল-আরাবিয়া ডটনেট সূত্রে সোমবার (১৪ এপ্রিল) জানা যায়, প্রতি বছর পাম সানডে উপলক্ষে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরা জেরুজালেমের গির্জাগুলোতে অংশগ্রহণ করেন যীশু খ্রিষ্টের ঐতিহাসিক আগমনের স্মরণে। (খ্রিস্টীয় ধর্মমতে, পাম সানডেতে যিশু গাধার পিঠে চড়ে জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিলেন) এ বছর পশ্চিম তীর থেকে অন্তত ৫০,০০০ খ্রিস্টানের যাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৬,০০০ জনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের দাবি, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবারের মতো কঠোর অবস্থান অতীতে খুব কমই নিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের একটি বড় উদাহরণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তের শুরু থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বাধা সৃষ্টি করে। অনুমতিপত্রের জন্য এবার নতুনভাবে নিরাপত্তা সংস্থার ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা অনেকের জন্য অনুমতি পাওয়াকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতির কারণে গ্রীক অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা প্যাট্রিয়ার্ক পিয়েরবাটিস্তা পিজাবাল্লার নেতৃত্বে শুধুমাত্র স্বল্পসংখ্যক খ্রিস্টান জেরুজালেমের গির্জাগুলোতে প্রার্থনায় অংশ নিতে পেরেছেন। কিছু ছোট দল পৃথকভাবে সাধারণ যাজকদের নেতৃত্বে গির্জায় উপস্থিত হয়।
খ্রিস্টান ধর্মযাজক ইব্রাহিম ফালতাস বলেন, ‘পশ্চিম তীরের ৫০,০০০ খ্রিস্টানের মধ্যে মাত্র ৬,০০০ জনের অনুমতিপত্র পেয়েছে। এটি প্রথমবার, যখন খ্রিস্টানদের প্রতি এতটা কঠোরতা দেখা গেল।’
এটি টানা দ্বিতীয় বছর, যখন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানসমূহে প্রবেশে এভাবে বাধা সৃষ্টি করা হলো। ধর্মীয় স্বাধীনতার এই সংকোচন নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া ডটনেট।
এআইএল/
