আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরান আগেই বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুতেই বিশ্বাস করা যায় না। আবারও তারা হামলা করে বসেছে ইরানে। যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কাই করেনি তারা। এর মাঝেই ইরানে আবার সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় হামলা করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাহিনী। ক্ষ্যাপাটে এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির পরেই এই হামলা শুরু হলো।
বুধবার (৯ জুলাই) দিনগত মধ্যরাতে ইরানের মেহর ও ফার্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাস এবং সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বান্দার আব্বাসের কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে সক্রিয় হয়েছে বলে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনারাক ও চাবাহার এলাকাতেও নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার হামলা শুরু করেছে।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ইরানি ক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এই হামলার উদ্দেশ্য হলো সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জন্য তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।’
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনার পর চাবাহার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশ থেকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাসে আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফলে সেখানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মার্কিন বাহিনী আজ রাতে ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর সামরিক হামলা চালাবে।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু সামান্য একটি আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখছি—আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানতে যাচ্ছি।’ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারি মতোই বিস্ফোরণেই কেঁপে উঠছে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরানে নতুন করে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস বন্দর, কেশম দ্বীপসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
এর পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় তেহরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও করে তুলতে পারে।
