শাপলার শহীদদের ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার আহ্বান মামুনুল হকের

by Abid vs36

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রক্ষিত শাপলা চত্বরের শহীদদের ভাস্কর্যের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে কেবল তাদের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে চিত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হক। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যেকোনো ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যকে তার মূল চেতনা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধারণ করেই উপস্থাপন করা উচিত। ফ্যাসিবাদের আমলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই সময়ে তারা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, যা ছিল মূলত ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন। রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী মানুষের ভাস্কর্য থাকা উচিত নয়—এমন স্পষ্ট অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি পরামর্শ দেন যে, শাপলা চত্বরের শহীদদের ক্ষেত্রে মুখাবয়ব যুক্ত ভাস্কর্যের পরিবর্তে তাদের স্মৃতি ও ঘটনার শৈল্পিক বা বস্তুনিষ্ঠ চিত্রায়ন করা হোক।

বিজ্ঞাপন
banner

জাদুঘরের ভেতরে তুলে ধরা ফ্যাসিবাদের দুঃসহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর কীভাবে জুলুম-নির্যাতন ও পাশবিকতা চালানো হতো, শান্তিপূর্ণ জনপদে মায়ের কোল খালি করে সন্তানকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হতো এবং হত্যার পরও লাশের সঙ্গে যে বর্বর আচরণ করা হতো—তার ভয়াবহ চিত্র এখানে স্থান পেয়েছে। এই জাদুঘরকে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সব শাসক এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য একটি শিক্ষণীয় পাঠশালা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলের পৈশাচিকতা যে কোনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে ব্যথাতুর করবে।

জাদুঘরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বিকেএম আমির বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটিকে আরও অধিক সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন অত্যন্ত সাধারণভাবে উন্মুক্ত রয়েছে এবং অনেক মূল্যবান জিনিস মানুষের হাতের নাগালে রাখা হয়েছে, যা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও ইতিহাস এখানে স্থান পায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখানে রাখা হয়নি। একইভাবে ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার পর গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং ২০২১ সালের আলোচিত মোদিবিরোধী আন্দোলনের কোনো উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচিহ্নও এই জাদুঘরে সংরক্ষিত নেই, অথচ ওই সময়ের বহু শহীদ ও আহত ব্যক্তি এখনও আমাদের মাঝে জীবন্ত ইতিহাস হয়ে বেঁচে আছেন।

১৯৭১ সালের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার স্মৃতি যেভাবে গুরুত্বসহকারে সংরক্ষিত ও উপস্থাপিত হয়েছে, ঠিক তেমনি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর স্মৃতিও সংরক্ষণ করা উচিত। কারো রাজনৈতিক প্রীতির দিকে তাকিয়ে আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাবিধূর ইতিহাস সংরক্ষণ থেকে পিছিয়ে থাকা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের অংশীজনদের যার যতটুকু অবদান, তাদের ঠিক সেভাবেই যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান প্রদর্শনীতে যথেষ্ট বৈষম্য করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এ ধরনের বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়টিতে সুনির্দিষ্টভাবে মনোযোগ দেবেন। সীমান্ত এলাকার মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবির চেয়ে বড় কোনো ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের দৃশ্য হতে পারে না, যা গোটা বাংলাদেশকে নাড়া দিয়েছিল। অথচ সেই ছবিও জাদুঘরে স্থান না পাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ ও মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মাওলানা রাকীবুল ইসলাম ও মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222