অবিক্রীত থাকার শঙ্কা থাকলেও শেষ মুহূর্তে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ। আইএলটি২০-এর ২০২৬ মৌসুমের নিলামে সাকিবকে দলে নিয়েছে এমআই এমিরেটস, আর তাসকিনকে কিনেছে শারজা ওয়ারিয়র্স।
দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের ফোর সিজনস হোটেলে ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় আইএলটি২০-এর ইতিহাসের প্রথম নিলাম। সেখানে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে সাকিবকে দলে ভেড়ায় ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন এমআই এমিরেটস। অন্যদিকে তাসকিনকে ৮০ হাজার ডলার দিয়ে নিয়েছে শারজা ওয়ারিয়র্স, যা সাকিবের দ্বিগুণ।
নিলামে প্রথম ডাকে কেউ কিনতে আগ্রহ দেখাননি সাকিব বা তাসকিনকে। তবে অবিক্রীত খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ডাক আসার পর দল পেয়ে যান এই দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। তাসকিনের এটি দ্বিতীয় বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি খেলেছেন লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল)। এবার বিসিবি অনুমতি দিলে আইএলটি২০-তে অভিষেক হবে তাঁর।
অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে নানা টি-টোয়েন্টি লিগ মাতালেও আইএলটি২০-তে এবারই প্রথমবার খেলবেন সাকিব। তবে এই লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে গত জুলাইয়ে গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) মাঠে নামেন তিনি। এই নিলামে বেশ কিছু পরিচিত মুখ অবিক্রীত থেকে গেছেন। ভারতের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ছিলেন সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যের (১ লাখ ২০ হাজার ডলার) খেলোয়াড়দের একজন হলেও তাঁকে কেউ দলে নেয়নি। একই পরিণতি হয়েছে পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব, ইংল্যান্ডের জেসন রয়, দক্ষিণ আফ্রিকার টেম্বা বাভুমা, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ নেওয়াজ, এমনকি ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ পেসার জিমি অ্যান্ডারসনেরও।
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আইএলটি২০-এর নিলামে ছয়টি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৩৫ হাজার ডলার করে ছিল দুবাই ক্যাপিটালস ও গালফ জায়ান্টসের হাতে। নিলাম অনুযায়ী, প্রত্যেক দলকে কমপক্ষে ১৫ লাখ ডলার খরচ করতে হবে, আর সর্বোচ্চ খরচসীমা ২০ লাখ ডলার।
২০২৬ আইএলটি২০–এর নিলামের খুঁটিনাটি
নিলামের তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার।
স্থান: ফোর সিজনস হোটেল, জুমেইরাহ বিচ, দুবাই।
কোন দলের কাছে কত ডলার ছিল:
- দুবাই ক্যাপিটালস: ১০ লাখ ৩৫ হাজার
- গালফ জায়ান্টস: ১০ লাখ ৩৫ হাজার
- আবুধাবি নাইট রাইডার্স: ৮ লাখ ২৫ হাজার
- ডেজার্ট ভাইপার্স: ৮ লাখ ২ হাজার ৫০০
- এমআই এমিরেটস: ৮ লাখ
- শারজা ওয়ারিয়র্স: ৮ লাখ
নিলামের নিয়ম:
- একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সর্বনিম্ন ১৫ লাখ ডলার খরচ করতে হবে। তবে ২০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।
- প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ১৯ থেকে ২১ জন খেলোয়াড় থাকবেন।
- আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলো থেকে কমপক্ষে ১১ জন, স্বাগতিক আরব আমিরাতের ৪ জন, কুয়েতের ১, সৌদি আরবের ১ এবং আইসিসির অন্যান্য সহযোগী দেশ থেকে অন্তত ২ জন খেলোয়াড় রাখতে হবে। ওয়াইল্ড কার্ড চুক্তি
- নিলামের বাইরে থেকে সর্বোচ্চ ২ জন খেলোয়াড় দলে ভেড়ানো যাবে। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ করা যাবে।
টিএইচএ/
