এম জি রাব্বুল ইসলাম পাপ্পু, কুড়িগ্রাম:
দীর্ঘদিন যাবত হার্টের সমস্যা শ্বাসকষ্ট এবং লিভার, কিডনি এবং ডায়বেটিস এর সমস্যায় ভুগছেন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কবির মাহমুদ গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাজার আলী। অসহায় গোলজার হোসেন বয়স্ক মা, স্ত্রী এবং এক পুত্র সন্তান নিয়ে খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। অভাবের সংসারে একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হলেও বেশ কিছু বছর যাবত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এমতাবস্থায় পরিবারের খরচ যোগান দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নিজের চিকিৎসার জন্য ১৫০/২০০ টাকার ঔষধ কিনতে হয় তাকে।
অভাব অনটন এবং ধার দেনা করে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তার স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। বর্তমানে তার বয়স্ক মা এবং ছেলে মিলে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সত্তোর্ধ মা মোছা. গোলাপজান বেগম প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় তার চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঔষধ কিনতে হয় যা মরার উপর খারার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে।
জীবন বাঁচাতে অসুস্থ মা অন্যের বাড়িতে টুকটাক কাজ করে যা পান তা দিয়েই কোনরকম চলছে পরিবার। অসহায় গোলজার হোসেন প্রতিবেদককে কাছে পেয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, “আমি সরকারের পক্ষ থেকে তিনমাস পর পর প্রতিবন্ধী ভাতার যে সামান্য অর্থ পাই তাই দিয়ে আমার ঔষধ এবং দোকানের বাকির টাকা পরিশোধ করি। কিন্তু গত ১৫ দিন আগে আমার প্রতিবন্ধী ভাতা আসার মোবাইলটি হারিয়ে যায়। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে একটি মোবাইল কেনার সামর্থ আমার নাই।”
অসহায় গোলজার হোসেনের অভাবী পরিবারের জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য সহযোগিতার জন্য চেষ্টা করলেও সেভাবে সাড়া মেলেনি। আর্থিক সংকট এবং নিজের সুচিকিৎসার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের ব্যক্তিবর্গের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন। অসহায় গোলজার হোসেনের জন্য দেশ বিদেশের ধনী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। তাকে সাহায্য পাঠানোর জন্য 01822477396 (বিকাশ, নগদ) নাম্বারে সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ কে জানালে তিনি আর্থিক অনুদানের জন্য তার দপ্তরে আবেদন দিতে বলেন।
এমএআর/
