জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে হামলার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওই হামলায় ৫৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা জানান, অঞ্চলে যে ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার ব্যাপকতা ও কঠোরতায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা সতর্ক করেন যে, গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি হলেও ভারতকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলতেই হবে।
বিশেষজ্ঞরা পর্যটন এলাকায় সংঘটিত নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবার এবং ভারত সরকারকে সমবেদনা জানান। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময়ও সব দেশেরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান দেখানো বাধ্যতামূলক।
হামলার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পুরো জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে প্রায় ২,৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাংবাদিক ও মানবাধিকার রক্ষাকারীও রয়েছেন।
কিছু বন্দিকে পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট এবং প্রিভেনশন অ্যাক্ট এর আওতায় আটক রাখা হয়েছে—যে আইনগুলো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি আটক রাখার অনুমতি দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসব আইনে সন্ত্রাসবাদের যেসব সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা ‘অস্পষ্ট ও অত্যধিক বিস্তৃত’।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু বন্দিকে নির্যাতন করা হয়েছে, একঘরে রাখা হয়েছে এবং আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘আমরা ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার, হেফাজতে সন্দেহজনক মৃত্যু, নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহার এবং কাশ্মীরি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবেদনগুলোর নিন্দা জানাই।’
তারা জোরপূর্বক ঘর ভাঙা এবং জোর করে উচ্ছেদ করার ঘটনাগুলোকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ সামষ্টিক শাস্তির শামিল এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের রায়েরও লঙ্ঘন, যেখানে এমন ধরনের ভাঙচুরকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি গ্লোবাল।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
