মো. নিজাম উদ্দিন স্বাধীন (স্টাফ রিপোর্টার)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭৭, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন তার নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন। যেখানে তিনি ২০টি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যা ঢাকা-৪ এর মানুষের সকল সমস্যার সমাধান হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধনিয়া কলেজ অডিটোরিয়ামে নির্বাচনী এলাকা ১৭৭,ঢাকা-৪ (কদমতলী-শ্যামপুর) এর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ এবং আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ইশতেহার পাঠ করেন।
তানভীর আহমেদ রবিনের পাঠ করা সবগুলো ইশতেহার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সময়োপযোগী এবং এলাকার সকল সমস্যার সমাধানের লক্ষে করা হয়েছে বলে মনে করছেন উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী এলাকার মানুষের দুঃখ দূর্দশা দূরীকরণে রবিনের পাঠ করা ইশতেহারের গুলোর মধ্যে
১. স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় এলাকার সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সম্মানিত আলেম ওলামাগণ এবং সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অন্তর্ভূক্তি করণ:
প্রতিটি মহল্লার সর্বস্তরের মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমাজের শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী ও সম্মানিত আলেম ওলামাগণ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্টজন, এলাকার সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নবীন- প্রবীণদের সম্পৃক্ত করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে।
২. জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সরকারের আন্তঃ মন্ত্রনালয়, ঢাকা দক্ষিণ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ:
জলাবদ্ধতা সমাধানের লক্ষ্যে ভরাট খালগুলো পুনঃখনন, দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার করে নির্দিষ্ট সময় পর পর ড্রেন পরিষ্কারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকা শ্যামপুর ও কদমতলী হতে সিদ্ধিরগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি, সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে যৌথ কমিশন গঠন করে উক্ত জলাবদ্ধতা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৩.আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ:
এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নতি করণে পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে এলাকার নির্বাচিত জন প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এলাকা ভিত্তিক পঞ্চায়েত কমিটির প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশ গঠন করা হবে। বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ অথবা কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের দ্বারা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে
আসা হবে।
৪. মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ:
প্রশাসন এবং এলাকার মানুষের সহায়তায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে কঠোর থেকে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও যদি সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫. কিশোরগ্যাং নির্মূল:
সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের এবং সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় কিশোরগ্যাংয়ের নেতৃত্বদানকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেতে যদি কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অথবা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কিশোর গ্যাংদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৬. স্বাস্থ্য সেবায় পদক্ষেপ গ্রহণ:
ঢাকা-৪ এলাকার শ্যামপুর ও কদমতলীর মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে একটি সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৭. গ্যাস ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ:
শ্যামপুর ও কদমতলী থানাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুরাতন গ্যাস সঞ্চালন লাইন যা মাটির গভীরে ১৫-২০ ফুট নিচে অবস্থিত। এই পুরাতন গ্যাস সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন জায়গায় লিকেজ থাকার কারণে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গ্যাস লাইন দিয়ে গ্যাসের পরিবর্তে ময়লা পানি বের হয় এবং গ্যাসের চাপ একেবারে নগন্য। উক্ত সমস্যা সমাধানে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুরাতন লিকেজ লাইনের পরিবর্তে নতুন গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও শ্যামপুর ও কদমতলী থানাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে যারা গ্যাস লাইনের লিকেজ, গ্যাসের স্বল্প চাপ ও অন্যান্য সমস্যা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। ঢাকা-৪ এর শ্যামপুর কদমতলীতে বসবাসরত জনসংখ্যার তুলনায় সুপেয় পানির পাম্পের সংখ্যা অতি নগন্য। এলাকার জনসংখ্যার অনুপাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নতুন পাম্প স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৮. আত্মকর্মসংস্থান:
যুব সমাজের চিন্তা ও আকাঙ্খা বাস্তবায়নে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব মন্ত্রনালয়, মহিলা বিষয়ক ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং এলাকার বিভিন্ন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে বেকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
৯. শিক্ষা ব্যবস্থা:
বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফায় উল্লেখিত চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবায়নে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা (Need Based Education) এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে (Knowledge Based Education) প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা-৪ এর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে পাঠদান আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসু করার জন্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করণের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি শিক্ষা সেল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ধর্মীয় অনুশাসন, রীতিনীতি এবং পবিত্র কোরআন ও হাদীসের শিক্ষার আলোকে ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ও মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সম্মানিত ওলামায়ে কেরামদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং এলাকার দেশ বরেণ্য আলেম ওলামাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা হবে। ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে একটি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১০. নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা রক্ষা:
পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে নারীর মতপ্রকাশ, প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সুবিধা বঞ্চিত অসহায় নারীদের মর্যাদা রক্ষায় সামাজিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।
১১. শ্রমিক অধিকার:
শ্রম আইনের বিধান মোতাবেক ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ে মালিক-শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১২. খেলার মাঠ, সরকারি কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান ও ঈদগাহ স্থাপন:
(ক) ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার শ্যামপুর-কদমতলীর আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় খেলার মাঠ স্থাপন করা হবে এবং এলাকার স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগণের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি কমিউনিটি সেন্টার, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠ স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
(খ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে স্বল্প ফি প্রদানের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৩. সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাঠাগার স্থাপন:
তরুণ-প্রবীণদের অবসর সময় জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে এবং কারিগরি ও তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষার জ্ঞান অর্জনে পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৪. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকরণ:
(ক) ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকাটিতে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধিতে অনেক জায়গায় নতুন করে জনবসতি সৃষ্টি হচ্ছে যার ফলে পুরাতন রাস্তাগুলো দ্রুতগতিতে ড্রেনসহ সংস্কার এবং নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
(খ) ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার জনগণের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় স্থানে একাধিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৫. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয় স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই মূলনীতির ভিত্তিতে সকল ধর্মাবলম্বীদের অবাধে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১৬. সবুজায়নের গুরুত্ব:
এলাকার সবুজায়নের জন্য বিভিন্ন রাস্তা, খেলার মাঠ, স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং এলাকার মানুষের বাড়ির ছাদে ছাদ বাগান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হবে।
১৭. রাজউকের হুকুম দখলের অবমুক্তির উদ্যোগ:
পোস্তগোলা করিমুল্লারবাগ এলাকার জায়গা জমি রাজউক কর্তৃক হুকুম দখলের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। সমস্যা সমাধানে রাজউকের হুকুম দখলের অবমুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৮. খাসমহলের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ:
ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার গোসাইবাড়ী, হরিচরণ সাহা রোড, আরসিন গেইট, করিমুল্লারবাগ এলাকা খাসমহলের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় জমি জমা বিক্রি, খাজনা ও ট্যাক্স প্রদানে এবং ভূমি অফিস থেকে নামজারি করণের প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
১৯. যানজট নিরসন:
ট্রাফিক পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে এলাকার যানজট নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে যানজট নিসরনের জন্য সম্পৃক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে এলাকার শিল্প মালিক সমিতি এবং বাস, ট্রাক, লেগুনা, অটোরিক্সা ও সিএনজি মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০. সর্বস্তরের জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন নিশ্চিত করণ:
এলাকার উন্নয়নে, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমি শুধু রাজনৈতিক কর্মী নির্ভর হতে চাই না। এলাকার জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমি আপনাদের প্রত্যেকের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে টেকসই সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। পাশাপাশি সমাজের অতি সাধারণ নাগরিকের নিকট জবাবদিহিতায় অন্তর্ভূক্ত হতে চাই। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আপনাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গুগুল প্লে-স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপস স্টোরে আমার নাম ইংরেজিতে Tanveer Ahmed Robin নামে একটি সরাসরি যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। যা আপনার মোবাইল ফোনে ডাউনলোডের মাধ্যমে আমাকে যে কোন সময়, যে কোন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান ও অভিযোগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে।
ইশতেহার পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রবিন বলেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে যখনই মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি তখনই তাদের দূঃখ দূর্দশার কথা শুনে লিপিবদ্ধ করেছি আজ তাদের সেই কথাগুলোই আমি ইশতেহার হিসাবে পাঠ করেছি। ঢাকার ১৫ টি আসনের সবচেয়ে অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত আসন ঢাকা-৪, এলাকার পানি নিষ্কাশন থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে সমস্যা। যা আমি নিজে পর্যবেক্ষণ করেছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকার কিশোরগ্যাং, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমার অঙ্গীকার করেছি জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে নির্মূল করা হবে। কোন চাঁদাবাজের ঠাঁই ঢাকা-৪ এ হবে না।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে বা যারা এমন কাজ করেছে তাদেরকে সবার আগে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি আমার দলের কেউ এমন ঘটনায় যুক্ত হয় তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে যা করণীয় তা আমি করবো। যে বা যারা করেছে তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এমএআর/
