দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষিত হলেও চূড়ান্ত গেজেট একযোগে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির অতিরিক্ত সচিব আখতার আহমেদ জানান, সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের হার্ডকপি বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব আসনের যাবতীয় নথি ও পরিসংখ্যান কমিশনের হাতে পৌঁছানোর পর পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট আসনের জন্য আলাদাভাবে গেজেট প্রকাশের সুযোগ নেই বলে কমিশন থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। মূলত তথ্যের শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন যে, আইনি জটিলতা ও আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ টি, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলন ১টি করে আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চট্টগ্রামের স্থগিত আসন দুটির ভোট সংসদ নির্বাচনের শতাংশের হিসেবে যোগ না হলেও গণভোটের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে শতাংশের হিসেবে সামান্য তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।
গণভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ইসি জানায়, মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি ‘না’ ভোট পড়েছে। নির্বাচনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও আসনভিত্তিক বিশ্লেষণ খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত সচিব জানান, এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে কমিশনের মূল মনোযোগ সামগ্রিক ফলাফল পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।
টিএইচএ/
