এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি:
আমের মুকুল আগাম বার্তা নিয়ে আসে মধুমাস হিসেবে পরিচিত ঋতুরাজ বসন্তের। বর্তমানে জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে গেছে প্রতিটি বাড়ি ও আমবাগান। জেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু আমের চাষ।
মধুমাসের স্বাদ পেতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফোটা আমের মুকুলের পাগল করা সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ঘ্রাণ যেমন মানুষের মনকে বিমোহিত করছে, তেমনি শোনাচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম ও শহরের খালি জায়গা, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনার গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রতিটি গাছের ডালপালা মুকুলে ছেয়ে আছে। বাতাসে ছড়াচ্ছে সেই সুবাসিত ঘ্রাণ। তবে আমের ভালো ফলন অনেকটাই নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন সাধারণ মানুষ ও বাগান মালিকরা।
দেওয়ানগঞ্জে আমচাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান রুমান জানান, তিনি অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে চাকরি না খুঁজে ১২ একর অনাবাদি জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক আমবাগান। বর্তমানে এ বাগানে রয়েছে পাকিস্তানের চোষা, থাইল্যান্ডের মহাচানক, জাপানের মিয়াজাকি, স্পেনের অস্টিন, ফ্লোরিডার কেইট, ভারতের সীতাভোগ এবং দেশীয় জাতের ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাত, হাঁড়িভাঙা, গৌড়মতি, আশ্বিনা, গোপালভোগসহ প্রায় ৬০টি জাতের আম।
তিনি আরও জানান, নিজস্ব পরীক্ষাগারে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০০ জাতের আম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে এই বাগানে ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বাগান মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম জানান, চলতি বছর আমের প্রচুর মুকুল এসেছে। সঠিক পরিচর্যা ও সময়মতো ওষুধ স্প্রে না করলে মুকুল নষ্ট হয়ে ঝরে পড়তে পারে। গাছে মুকুল আসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের পরিচর্যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে কৃষি অফিস নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলায় দিন দিন আমের বাগান সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বাণিজ্যিকভাবে নতুন বাগান তৈরি হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন বাগান থেকে বাণিজ্যিকভাবে আম সরবরাহ শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, মুকুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ হতে পারে। তবে এ বছর কুয়াশা তুলনামূলক কম। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে বাগান মালিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যথাযথ পরিচর্যা না করলে ফলন ঝরে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের চারা বিতরণ করা হবে, যাতে তারা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
এমএআর/
