রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড–এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই ৬০ জনকে স্থায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মরত ৬০ জন শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট–এর নির্দেশনা এবং বোর্ডের নিজস্ব বিধিমালা উপেক্ষা করে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ.খ.ম মোফাকখারুল ইসলাম, সচিব অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী এবং প্রেষণে কর্মরত ডিডিসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আপিল মামলার রায় অনুযায়ী কোনো পদ শূন্য হলে তা বিজ্ঞাপন দিয়ে পূরণ করতে হবে এবং দৈনিক মজুরদের বয়স শিথিল করে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এবং সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ না দিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ। এমনকি বোর্ডের নিজস্ব প্রবিধান ‘এসআর-৬৫’-এর ২ নম্বর ধারাও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে সিলেকশন কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলেও এ ক্ষেত্রে কোনো কমিটির তোয়াক্কা করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রোববার সচিব ও চেয়ারম্যানের কক্ষে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র প্রদান করা হয়।
দুর্নীতি আড়াল করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপত্রে ৭৪৯ ও ৭৫০ নম্বর স্মারক ব্যবহার করা হলেও বোর্ডের মূল স্মারক বইয়ে তার কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। এমনকি নিয়োগপ্রাপ্তদের আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়নি—সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ায় বোর্ডের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, “অনেক আগে থেকেই গোপনে এই নিয়োগের পরিকল্পনা চলছিল। এমনকি নিয়োগের জন্য একটি সুপারিশমালাও করা হয়েছিল, যা গোপন রাখা হয়। এ নিয়োগ কোনো বিধি অনুযায়ী সঠিক নয়। অবিলম্বে এটি বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া উচিত। অন্যথায় এটি বোর্ডের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “বোর্ডে এতগুলো পদই নেই। কোনো পদ সৃষ্টি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় না মেনেই এটি করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ.খ.ম মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, “আজ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান চাইলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ সরাসরি দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়।”
স্মারক নম্বর মূল বহিতে না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “যার দায়িত্বে স্মারক বই ছিল, তিনি তা তালাবদ্ধ করে বাইরে ছিলেন। এজন্য সাদা কাগজে দুটি স্মারক নম্বর ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে শুনেছি সেটি বহিতে লিপিবদ্ধ হয়নি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।”
এমএআর/
