সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আপাতত মূল্যবৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। মজুত ও পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ বর্তমান বাজার স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
শুক্রবার সকালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনি এলাকায় এসে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখে এ দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় রোজা সামনে থাকায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে ইতিবাচক দিক হলো—বর্তমানে সরকারের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথেষ্ট।
রপ্তানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত চার থেকে পাঁচ মাসে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, রপ্তানি ঝুড়ি সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।
নিজ নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিলেটকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি তার প্রধান প্রতিশ্রুতি। কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে সিলেটে দেশীয় ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন, যা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে সরকার পরিকল্পিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত জনসাধারণের উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিমান থেকে নেমে আপনাদের হাসিমুখ দেখে মন ভরে গেছে। এতে বোঝা যায়, যে উদ্দেশ্যে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন, তা সফল হয়েছে।”
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এমএআর/
