কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এ আবাসিক হলে সিট দখল ও বহিরাগতদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, হল দখলের চেষ্টা ঘিরে সংগঠনের এক যুগ্ম আহ্বায়ক নিজ দলের এক কর্মীকে মারধর করে তার নাক ফাটিয়ে দেন।
ঘটনায় অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এর তৃতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে বিক্ষোভ করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কুবি শাখা ছাত্রদলের ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ), যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ), তরিকুল (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) এবং সিফাত (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ)।
আহতরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সৌরভ কাব্য। বর্তমানে সৌরভ কাব্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগীরাও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং সেখানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক কর্মীকে স্থান দেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং সিনিয়রদের অবহিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে সিট বরাদ্দের নির্দেশ দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা রাতের দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ উপস্থিত থাকাকালে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে চড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের ধাওয়া করলে তারা হল এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অছাত্রদের হলে তোলার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও তারা দাবি করেন। বিজয় চব্বিশ হলসহ আরও কয়েকটি হলে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, “কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে গেছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় বলেন, “আমরা ছাদে ছিলাম। এর মধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলার ধরে চড় মারে। আর ১৭ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে দেয়। তাদের সঙ্গে সাইফুল, তরিক ও ১৮ ব্যাচের সিফাত নামের এক শিক্ষার্থী ছিল। তখন সৌরভের নাক ফেটে যায়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। আতিক আমার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। সে আমাকে রাজনৈতিকভাবে মারধর করেছে।”
বহিরাগত হয়েও ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে হল দখলের চেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে।”
দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. ম. জনি আলম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
এমএআর/
