ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দুটি দেশ কাতার ও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটি থেকে কয়েকশ সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস গত শুক্রবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে কাতারের আল উদেয়িদ এয়ারবেসটি মার্কিন বাহিনীর বৃহত্তম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পেন্টাগন এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সেনা অপসারণের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ এবং অবকাঠামোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।
গত ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় কাতারের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। মূলত সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবং সাম্প্রতিক হুমকির পর কাতার ও বাহরাইনের নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
টিএইচএ/
