রমজান মাস শুরু হলেও সিলেটে এলপি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের সংকট কাটেনি। টানা প্রায় দুই মাস ধরে বাজার অস্বাভাবিক রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, রমজান শুরুর আগে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এলপিজি আমদানি হয়নি। বরং গত এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ২১ হাজার টন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও এসেছে মাত্র ১ লাখ ৫ হাজার টন।
নগরীর খুচরা বিক্রেতারা জানান, চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাসও তারা পাচ্ছেন না। পাইকারি পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে তা ১ হাজার ৭০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৩৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় অপ্রাপ্য।
ডিলারদের দাবি, তারা সীমিত লাভে বিক্রি করলেও খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচ ও কমিশন না পাওয়ায় নির্ধারিত দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না।
এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫-৬টি প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারছে। অন্যদের এলসি অনুমোদন না পাওয়ায় আমদানি কমে গেছে।
সিলেটের শীর্ষ ডিলারদের একজন মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন বলেন, “আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এখনো চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। রমজানে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম, তবে মার্চে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।”
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা জানান, বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের সুযোগ নেই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের দাবি, নতুন সরকার দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিক। কারণ শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় এখন রান্নার প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠেছে এলপি গ্যাস।
এমএআর/
