বিএনপির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে একটি সংসার ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই কন্যাসন্তানের জননী লাইজী বেগমকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ইমামুল শেখের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের কদমী-দস্তন গ্রামে ঘটে। জানা গেছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রুপাপাত ইউনিয়ন মহিলা দলের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগে বের হন ১২ জন নারী। ওই দলে লাইজী বেগমও ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি জানতে পেরে ইমামুল শেখ ক্ষুব্ধ হন। তিনি প্রকাশ্যে স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন এবং এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক উচ্চারণ করেন। ঘটনার পর থেকেই লাইজী দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
লাইজীর বড় মেয়ে মরিয়ম (৯) শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ছোট মেয়ে লাইলা (৫) এখনও মায়ের সঙ্গেই থাকে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইজী বলেন, স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই তাকে নির্যাতন করছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় না যেতে নিষেধ করা হলেও পারিবারিক রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তিনি গণসংযোগে অংশ নেন। এর জেরেই প্রকাশ্যে অপমান করে তালাক দেওয়া হয় বলে দাবি তার। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
তবে ইমামুল শেখের দাবি, তাদের দাম্পত্য কলহ আগে থেকেই চলছিল। তিনি স্ত্রীকে প্রচারণায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। তার ভাষ্য, কথা না শুনে পরপুরুষের সঙ্গে ভোট চাইতে যাওয়ায় রাগের মাথায় তালাক দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রুপাপাত ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি মাহমুদা রহমান বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো নারীকে এভাবে তালাক দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন সৈকত বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রয়োগের কারণে একজন নারী সংসার হারাবেন—এটি দুঃখজনক।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজন এখন শুধু জনপরিসরেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও প্রভাব ফেলছে। দুই শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও এক মায়ের অসহায়ত্ব—ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হয়ে উঠেছে।
এমএআর/
