এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজানে জামালপুরে আবারও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বেগুন, শসা, লেবু, চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলাসহ প্রায় সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে। ফলের বাজারেও একই চিত্র—ক্রেতাদের অভিযোগ, অধিকাংশ ফলই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতার দাবি থাকলেও বাস্তবে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের মনে।
জেলার শহর ও গ্রামের বিভিন্ন বাজারগুলোতে কয়েকদিন আগেও যেসব পণ্য ছিল ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে, এখন সেগুলোর দামে আগুন। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলাসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
রমজান উৎসবের সেই প্রস্তুতির বদলে অনেকের চোখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। এই বাজারেই প্রতিদিন জীবনযুদ্ধের হিসাব কষেন তারা। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা—প্রয়োজনের তালিকা লম্বা, অথচ পকেট যেন দিনদিন ছোট হচ্ছে। প্রতিটি দামের বোর্ড যেন একেকটি দীর্ঘশ্বাস। রমজানে নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়লেও সেই সুযোগে যেন লাগামহীন হয়ে উঠছে দাম। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের প্রত্যাশা—বাজারে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত মূল্য নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চরম বেকায়দায় পড়েছে।
রমজান উপলক্ষে ক্রেতারা পণ্য বেশি করে ক্রয় করার কারণেই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বলে যুক্তি দেখাচ্ছেন বিক্রেতারা।
জামালপুর জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। রমজান শুরুর দিকে দাম কিছুটা বাড়লেও এখন তা নিয়ন্ত্রণে আছে।
ক্রেতাদের দাবি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও স্বস্তির বাজারই পারে অনেক পরিবারের রমজানকে সত্যিকার অর্থে শান্তির মাসে পরিণত করতে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এমএআর/
