সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছে সরকার। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান এ তথ্য জানান।
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই ৪৮১ জনের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে আব্দুল মালিক অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা চরমভাবে কোণঠাসা ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সম্মানি ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এ ধরনের অনিয়মের ব্যাপকতা লক্ষ্য করা গেছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। প্রকৃতপক্ষে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে কিছু নেই, তবে কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, অপকৌশলে তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রকৃত তালিকা স্বচ্ছ করতে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গঠিত একটি বিশেষ উপকমিটি বর্তমানে নিয়মিত শুনানি গ্রহণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গেজেট বাতিল করা হবে। একইসাথে যারা এতদিন অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
টিএইচএ/
