রাবি প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি আমলে নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার (৩ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে ‘ম্যানার’ বা শিষ্টাচার শেখানোর নামে চরম অপমানজনক আচরণ করে আসছেন। জোরপূর্বক বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ানো, বিকৃত কবিতা আবৃত্তি ও গান গাইতে বাধ্য করা এবং ব্যক্তিগত ফোন চেক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া তুচ্ছ কারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং এমনকি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত বছরের নভেম্বর মাসে বিভাগের এক শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে তাদের জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছিল। যারা নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েছিলেন, তাদের পুরো ব্যাচ থেকে ‘বয়কট’ করার হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে বিনোদপুর এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পরে উপস্থিত না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন রোববার শিক্ষার্থীদের একটি নোটিশের মাধ্যমে ডেকে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্তদের একজন নাফিউল ইসলাম জানান, র্যাগিং সংক্রান্ত কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। অপর অভিযুক্ত তাসিবুল ফাহাদ দাবি করেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা জুনিয়রদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেখানে কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে র্যাগিংয়ের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
