ফয়জুল্লাহ আমান :: কিছুদিন আগে দুইজন কোরিয়ান ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী সম্পর্কে লিখেছিলাম। তারা মুসলিমদের রমাদান ও সিয়াম নিয়ে গবেষণা করছে। প্রথম সাক্ষাৎকার শেষে তারা বলেছিল—নিজেরা কিছুদিন রোজা রেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করে আবার আসবে।
আজ তারা আবার এলো।
ইউন বলল, সে রোজা রাখার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু দুপুরের পর আর চালিয়ে যেতে পারেনি। অন্যজন জানাল, সে দুটি রোজা পূর্ণ করেছে, তবে সেটা তার জন্য খুব কষ্টকর ছিল। বিশেষ করে তৃষ্ণা তাকে খুব দুর্বল করে দিয়েছিল।
আমি বললাম, “এটা তো তোমাদের জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই কষ্ট হয়েছে। অভ্যাস হয়ে গেলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।”
তাদেরকে বললাম, মুসলিম সমাজে আট-দশ বছরের শিশুরাও অনেক সময় পুরো রমাদান রোজা রাখে। তারা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এটা কীভাবে সম্ভব?”
আমি বললাম, “মূল বিষয়টি শুধু শারীরিক নয়, বরং বিশ্বাসের। একটি মুসলিম শিশুও জানে—সিয়ামের মাহাত্ম্য কী। শুধু জানেই না, বিশ্বাস করে যে আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দেবেন। এই ঈমান ও আধ্যাত্মিক চেতনা রোজাকে সহজ করে দেয়। তোমাদের সেই বিশ্বাস না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সিয়াম তোমাদের কাছে কঠিন মনে হচ্ছে।”
তারা বিষয়টি গভীরভাবে নিল। এরপর বলল, “ইমাম, আপনি কি আমাদের অন্য কোনো মুসলিমের সাক্ষাৎকার নিতে সাহায্য করবেন?”
আমি তাদের অফিসে বসিয়ে বাইরে গেলাম। আসানের ব্যবসায়ী শাহাদাত ভাইকে পেয়ে তাকে নিয়ে এলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তিনিও প্রায় একই ধরনের উত্তর দিলেন।
এরপর তারা বলল, “উনি তো ব্যবসায়ী। আমাদেরকে কয়েকজন ওয়ার্কারের নম্বর দিন। আমরা জানতে চাই, যারা কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য রমাদান কীভাবে সম্ভব হয়।”
আসলে গবেষণার পদ্ধতিই এমন—বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করা।
দুই তরুণ এখনো মুসলিম নয়। কিন্তু ইসলামের একটি বিধানকে বোঝার জন্য তাদের এই আন্তরিক চেষ্টা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। মনে হলো, সত্যের প্রতি মানুষের অনুসন্ধিতসা এখনো পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি।
আমি হজে যাচ্ছি শুনে তারা বলল, “আমরা আবার আপনার কাছে আসতে চাই। আপনার সফরের আগে না হলে পরে।”
বিদায়ের সময় তারা কোরিয়ান রীতিতে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানাল।
আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে ইসলামের সৌন্দর্য ও সিয়ামের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন।
লেখক : ইমাম ও খতীব, আনসান জামে মসজিদ, কোরিয়া।
