নৈতিক, মানবিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির চর্চায় এবার লন্ডনে যাত্রা শুরু করেছে মুসলিম টেক ফেস্ট (Muslim Tech Fest)। মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই আয়োজিত হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব।
অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ২৭টি দেশের ১,৫০০ এরও বেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী। উৎসবের গ্লোবাল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
শনিবার (২১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে লন্ডনে শুরু হয় মুসলিম টেক ফেস্ট ২০২৫। মূলত প্রযুক্তির জগতে মুসলিমদের নেতৃত্ব ও অবদান তুলে ধরা, উদ্ভাবনে নৈতিকতা বজায় রাখা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ অথচ মানবকেন্দ্রিক টেকনোলজি নির্মাণের আহ্বান জানানোই এই উৎসবের উদ্দেশ্য।
এই ফেস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০২৩ সালে, দুই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা আরফাহ ফারুক ও জাহিদ মাহমুদের উদ্যোগে।
এই বছরের উৎসবে (ফেস্টিভালে) অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য, সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাসহ ২৭টি দেশের অংশগ্রহণকারী।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উৎসব শুধুই বৈচিত্র্য দেখানোর ব্যাপার নয়, বরং বাস্তবিকভাবে সকলের জন্য প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই আসল উদ্দেশ্য।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাহিদ মাহমুদ বলেন, বিশ্বাস আর উদ্ভাবন একে অপরের পরিপন্থী নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে হাত ধরেই এগিয়েছে। আমাদের মুসলিম পরিচয় থেকেই আমরা দেখতে চাই—কীভাবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা যায় যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক হয় এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তা সকলের জন্য কাজ করে—হোক সে প্রতিবন্ধী, নতুন ব্যবহারকারী, কিংবা দুর্দশাগ্রস্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা কেউ। ইসলামি মূল্যবোধ ডেভেলপারদের মনে করিয়ে দেয়, তাদের উদ্ভাবন কাদের জন্য এবং কী প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আয়োজন শুধুই প্রযুক্তির নয়, বরং এতে জায়গা পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল আলাপচারিতা। ফেস্টে উপস্থিত ছিলেন অবরুদ্ধ গাজার প্রযুক্তি সংগঠন গাজা স্কাই গ্রীকস (Gaza Sky Geeks)-এর সদস্যরা, যারা তাদের কঠিন বাস্তবতার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন।
জাহিদ মাহমুদ বলেন, আমরা যুদ্ধক্ষেত্রের প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের আমন্ত্রণ জানাতে সময় ও শ্রম দিই। এরা আসল মানুষ, যারা ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে বাঁচছে।
গত বছরও মুসলিম টেক ফেস্টে গাজা এক্সপো অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং এবছর যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। ফেস্টে তারা নিজেদের প্রকল্প ও সম্ভাবনা তুলে ধরছেন।
জাহিদ মাহমুদের কথায়, প্রযুক্তি একা হয়তো বিশ্ব বদলাতে পারবে না। কিন্তু কেউ যদি এই আয়োজন দেখে অনুপ্রাণিত হয়, একটা পরিবর্তন আনে, কোনো ন্যায্য দাবি সমর্থন করে বা একটা ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়—তাহলে এই আয়োজন সফল।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
এআইএল/
