আফগানিস্তানে তালেবান নেতৃত্বাধীন ইসলামি আমিরাত সরকারকে স্বীকৃতি দিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুসলিম উলামা পরিষদ। রাশিয়ার নেওয়া সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে পরিষদের মহাসচিব শায়েখ ড. আলী মুহিউদ্দীন কারাদাগী বলেন—এটি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আফগান জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি দৃষ্টান্ত।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা রাশিয়া ফেডারেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা এমন একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সঠিক পথে অগ্রসর হয়েছে। এই স্বীকৃতি আফগান জনগণের আত্মনির্ধারণের অধিকারকে সম্মান জানায়। এটি কোনো বিদেশি প্রভাব নয়, বরং একটি জাতির স্বাধীন প্রচেষ্টার ফল।”
শায়েখ কারাদাগী আরও বলেন, ইসলামি দেশগুলোর উচিত আর দেরি না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামি আমিরাতকে স্বীকৃতি দেওয়া। সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না—এবং রাজনৈতিক শূন্যতা থাকলে তা অন্য শক্তিগুলো পূরণ করে নেয়।
এদিকে একই দিনে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ তলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা রাশিয়ার মতো সাহসিকতা দেখায়। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি আমেরিকা এখন বাধা না হয়ে বরং রাশিয়ার মতো সাহস দেখাবে এবং অন্য দেশগুলোকে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে।”
জবিহুল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেন, আফগান সরকার দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লক্ষ্যে কূটনৈতিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাশিয়ার স্বীকৃতি সেই ধারাবাহিক চেষ্টারই ফল, যা বৈশ্বিক পরিসরে আফগানিস্তানকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে।
আন্তর্জাতিক উলামা পরিষদের বক্তব্যে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি বারবার এই মর্মে অনুরোধ করা হয়েছে যে, যদি মুসলিমরা নিজেরাই নিজেদের সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে বাইরের শক্তিগুলোর কাছ থেকে নিরপেক্ষ আচরণ আশা করা অর্থহীন। পরিষদ বলেছে, ইসলামি আমিরাত সরকার কোনো বিদেশি ট্যাংকের জোরে নয়, বরং জনগণের ইচ্ছা ও প্রতিরোধের শক্তিতে ক্ষমতায় এসেছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের হটিয়ে পুনরয় ক্ষমতার মসনদে বসে তালেবান। তৎকালীন শঙ্কা ছিল দেশটি অরাজকতায় নিমজ্জিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে ভিন্ন। আজ তালেবানের নেতৃত্বে আফগানিস্তান ধীরে ধীরে সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে।
এনএ/
