ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে আশাবাদী নন বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৩ জুলাই) আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত অবসানের পর এটাই ইরানি প্রেসিডেন্টে প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার।
তিনি বলেন, ইসরাইলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলের গভীরে আঘাত হানতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান আশাবাদী নয় বলেও জানান তিনি। এ কারণে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি এবং যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ইরানে ইসরাইলের আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানও শক্তিশালী হামলা চালায়। তবে ইসরাইল তার ক্ষয়ক্ষতি গোপন করছে।
তার অভিযোগ, হামলা করে ইসরাইল ইরানকে ভেঙে ফেলতে এবং দুর্বল করতে চেয়েছিল। তবে তেলআবিব সে লক্ষ্য পুরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলেও জানান এই প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। আমরা তার কথা মেনে নেই কারণ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধী। এটাই আমাদের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, মানবিক এবং কৌশলগত অবস্থান।’
পেজেশকিয়ান জানান, ‘আমরা কূটনীতিতে বিশ্বাস করি, তাই ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনা অবশ্যই দুই পক্ষের স্বার্থ সমানভাবে রক্ষা করতে হবে। আমরা হুমকি এবং আদেশ মেনে নেব না।
তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ হয়ে গেছে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।
এআইএল/
