গানের শিক্ষকের পরিবর্তে স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে

by Nur Alam Khan

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের ইসলাম বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত বাতিল করে অবিলম্বে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থে নৃত্য ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাকে খুশি করতে চায় আমাদের বোধগম্য নয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন ইসলামী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ, সভা ও বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের ইসলাম বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত বাতিল করে অবিলম্বে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী মুসলিম পরিবারের সন্তান। তারা কোরআন পড়তে পারে না, নামাজ সঠিকভাবে আদায়ের নিয়ম জানেনা। ধর্মীয় জ্ঞান না থাকায় সন্তান অবাধ্য ও উসৃঙ্খল হচ্ছে। ফলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এ দেশের মুসলমানরা সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছে। রাষ্ট্রের কাজ মুসলিম সন্তানদের কুরআন শিক্ষা দেয়া। যে সরকার মুসলমানদের সন্তানকে কোরআন শিক্ষার দায়িত্ব নিতে পারে না, সেই সরকার নাচ-গান শিক্ষার জন্য বাধ্য করবে তা দেশবাসি মেনে নিবে না। রাষ্ট্রীয় অর্থে নৃত্য ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাকে খুশি করতে চায় আমাদের বোধগম্য নয়।

মাওলানা হামিদী প্রাইমারী স্কুলগুলোতে কোমলমতি মুসলিম শিক্ষার্থীদের সহিহ শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন শরীফ ও জরুরি মাসআলা-মাসায়েল ও নৈতিক শিক্ষা দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আলেম শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর ) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে প্রাইমারিতে নৃত্য ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ধর্মীয় শিক্ষক হিসাবে আলেমদের নিয়োগ দেয়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান কাসেমী ও শাহিনুর আলম চৌধুরী। মুফতী আবুল হাসান কাসেমী অবিলম্বে এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় দেশব্যাপী আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে এবং সৃষ্টি পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে।

রাজধানীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়ে গিয়ে বৃষ্টির কারণে সমাপ্ত করা হয়।

ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ঃ ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ ও সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান ও ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের শতকরা ৯২ জন মুসলমান। এই মুসলমানের দেশে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রত্যেকটি প্রাইমারি স্কুলে একজন গানের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এদেশের ওলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রাইমারি স্কুলগুলিতে একজন ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দান করার।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মুসলমান ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মভীরু, তাই এদেশের প্রত্যেকটি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক জরুরি। শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই শিশুকাল থেকেই কুরআন এবং হাদিসের প্রাথমিক শিক্ষায় তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষাও তারা অর্জন করবে।

তারা বলেন, কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টাসহ বেশিরভাগ উপদেষ্টা এনজিও থেকে আসা। তাদের বেশিরভাগ অংশ এদেশে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বিদেশি সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দিয়ে আমাদের শিশুদের মগজ ধোলাই করে বিদেশীদের এজেন্ডা এদেশে বাস্তবায়ন করতে চান। কোরআন এবং হাদিসের শিক্ষা কোন শিশুর অন্তরে ঢুকলে তারা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশসেবা করার জন্য তাদের ইচ্ছা এবং উদ্যম ভালো কাজে লাগবে। তাই প্রাইমারি স্কুলে ছাত্রদের আদর্শ শিক্ষার প্রয়োজনে অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করা জরুরি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রাইমারি স্কুলে কোনোক্রমেই গানের শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না, তদস্তলে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা হতে দাওরায়ে হাদিস পাস করা আলেমদেরকে প্রত্যেক স্কুলে নিয়োগ দিতে হবে। নেতৃত্বয় শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টাকে জরুরি ভিত্তিতে গানের শিক্ষক নিয়োগ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তদস্থলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করার আদেশ প্রদান করার জোর দাবি জানান অন্যথায় বাংলাদেশের তৌহিদী জনতা উক্ত দাবি আদায়ের জন্য মাঠে নামবে প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করবে না।

পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ : বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সাম্প্রতিক সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, সমাজকর্মী ও অভিভাবকবৃন্দ। তাদের মতে, সংগীতের নামে অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া শিশুদের কোমল মন ও নৈতিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে দাওয়াতি ও মানবিক সংগঠন পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে প্রাইমারি স্কুলগুলোতে একজন নূরাণি শিক্ষক নিয়োগের জন্য দেশের উলামায়ে কেরাম দাবি করে আসছেন।

আলেম-উলামা ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ জনআকাঙ্খা পরিপন্থি। এর মাধ্যমে অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শূন্যতা দেখা দেবে।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘বর্তমানে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ একটি নৈতিক, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল জাতি গঠনের জন্য প্রাথমিক স্তরেই ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাই অবিলম্বে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।’

বৈঠকে কতিপয় প্রস্তাব পেশ করা হয়। প্রস্তাবসমূহ হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমপক্ষে একজন আলেম ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, পাঠ্যক্রমে ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের আমির ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী’র সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক মাওলানা মহব্বত হুসাইনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন মাওলানা রুহুল আমীন সাদী।

আলোচনা পেশ করেন মাওলানা আব্দুর রাযযাক নদভী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল মাওলা (এনডিসি, পিএসসি), মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, শায়খ মাওলানা আব্দুল মতিন আযহারী, ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ড. এসকে মাহতাব উদ্দীন, ড. ঈসা মুহাম্মদ, আহসানুল্লাহ শামীম, মুফতি শারাফাত হুসাইন, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মোনায়েম খান, মুহসিন উদ্দিন মাহমুদ, মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মুফতি যুবায়ের আহমদ আল ওয়ারিসী, মুফতি ইয়াছিন আহমদ জিহাদি, মো. হুমায়ুন কবির।

স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, সকল প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে গানের শিক্ষক নিয়োগের প্রতিবাদ এবং সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গফরগাঁও সমমনা উলামা ঐক্যজোট। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মার পরে গফরগাঁও রেলস্টেশনে চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা শহিদুল্লাহ, মাওলানা মাঈনুউদ্দিন হাবিব, মাওলানা জালাল উদ্দিন ও মাওলানা ইলিয়াস আহমেদ ফরাজী প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, অবিলম্বে প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে গানের শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। সরকার ধর্মীয় শিক্ষককে বাদ দিয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা করছে। প্রত্যেক মুসলমানদের প্রথমে কোরআন শিক্ষক দিতে হবে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে]। তা নাহলে এদেশের আলেমসমাজসহ গোটা মুসলমান দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222