গাজা অভিমুখী মানবিক নৌবহর ফ্রিডম ফ্লোটিলা বা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে বর্বর ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দিচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষাকারী এই নৌবহর আটকে দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া।
তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরকে আটকে দেওয়া মানবতার বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গাজার অবরুদ্ধ ও নিরীহ মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানো ঠেকিয়ে দিয়ে ইসরায়েল আবারও তার বর্বর ও অমানবিক চেহারা প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই দমননীতি বিশ্ব বিবেককে চ্যালেঞ্জ করছে। নিরীহ মানুষকে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করা বা মানবিক সহায়তাকে বাধাগ্রস্ত করার অধিকার কোনো রাষ্ট্রের নেই।
তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মানবতার প্রতীক, আর এই উদ্যোগ দমন করতে গিয়ে ইসরায়েল তার ভয়াবহ দমননীতি উন্মোচন করেছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার উদ্যোগ আসলে শান্তি ও মানবতার প্রতীক, যা ইসরায়েল ভয় পাচ্ছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) বাদ মাগরিব যাত্রাবাড়ী ভাঙ্গাপ্রেস সংলগ্ন জামি‘আ ইসলামিয়া দারুল উলূম ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন আটক হওয়া নৌবহরের প্রধান জাহাজ কনশেন্স-এ থাকা ৯৩ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীর মধ্যে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমও রয়েছেন। শহিদুল আলমের আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সকল মানবাধিকারকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মুফতী ইয়াহইয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাই—ইসরায়েলের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো মানেই মানবতার পাশে দাঁড়ানো। আমরা নিরীহ নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে আছি এবং থাকব, ইনশাআল্লাহ। ইসরায়েলের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শক্ত প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।’
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতী আব্দুল্লাহ ইদ্রিস, মুফতী জাফর আহমদ, মুফতী তাজুল ইসলাম ও মুফতী ফারহান নাজিম প্রমুখ।
হাআমা/
