সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে স্কুলছাত্র তামীম হোসেন (৭) হত্যার মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামি মান্নান আকন্দকে দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মো. শরিফুল হায়দার (রফিক সরকার) মামলার বিবরণ দিয়ে জানান, তামীম হোসেন উল্লাপাড়া উপজেলার নরসিংহপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সে নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের অনেক খোঁজাখুঁজি সত্ত্বেও তার সন্ধান মেলেনি। পরের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানা যায়, নরসিংহপাড়া বাবুল আকতারের সরিষার ক্ষেতের মধ্যে তামীমের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের গলায় রশি দিয়ে মোড়ানো এবং মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা সোলেমান ফকির বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের সময় পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে তামীমকে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ প্রমাণের পর আদালত আজ তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
নিহত তামীম হোসেন ছিলেন উল্লাপাড়া উপজেলার চকপাঙ্গাসী গ্রামের সোলেমান ফকিরের ছেলে।
এমএআর/
