কুষ্টিয়ায় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালে এখনো পানি আসেনি। এতে রবি মৌসুমের চাষিরা পানি বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বোরো চাষ নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) ও ড্রেজিং কাজ বিলম্বিত হওয়া এবং সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারি সেচ প্রকল্পের আওতাধীন সব খালে পানি ছাড়ার কথা। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে গেলেও এখনো খালে পানি প্রবাহ শুরু হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জিকে সেচখালের পানি ব্যবহার করলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকায় চাষাবাদ সম্ভব। কিন্তু ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করলে খরচ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এতে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক জমি অনাবাদি পড়ে আছে। বিকল্প ফসল চাষ করলেও উৎপাদন কম ও খরচ বেশি হওয়ায় লাভজনক হচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জিকে সেচ প্রকল্পের আওতায় চার জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ একর জমি রয়েছে।
চাঁদগ্রাম অঞ্চলের কৃষক আলী হোসেন বলেন, “পানির অভাবে বাধ্য হয়ে অনেকেই ধানের বদলে সরিষা বা গম চাষ করেছেন। খালে পানি না এলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।”
কৃষক শের আলী খাঁ বলেন, “খালে পানি না এলে চাষাবাদ করা অসম্ভব। এত বেশি খরচ বহন করা যায় না। কয়েক বছর ধরেই সময়মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না।”
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা জানান, প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চাঁদগ্রাম ও বাহিরচর ইউনিয়নে প্রায় ১,৫৩০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধানের আবাদ ৬৩৫ হেক্টর, সরিষা ১২০ হেক্টর, গম ৭০০ হেক্টর এবং ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে জিকে প্রকল্পের পানি অনিয়মিতভাবে আসছে। কৃষকদের বিকল্প সেচ ব্যবস্থায় সহায়তা করা হচ্ছে। অনেককেই বিএডিসি সেচ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।”
ভেড়ামারার জিকে পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, “প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সেচ কার্যক্রম চলে। বাকি সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রেজিং কাজ হয়। এ বছর কাজ সময়মতো শেষ হয়নি এবং বরাদ্দকৃত অর্থও বিলম্বে পাওয়া গেছে। প্রকল্পটি মূলত পদ্মা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে পানির স্তর অনুকূলে রয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পানি সরবরাহ শুরু হবে।”
ভেড়ামারা-মিরপুরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, “জিকে খালে পানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা দ্রুত পানি ছাড়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ভবিষ্যতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
এমএআর/
