বিরোধী দলীয় হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য, এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই এই গণভোটকে অস্বীকার করা মানে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকেই অস্বীকার করা।”
তাঁর ভাষায়, যারা জুলাই আন্দোলনকে অস্বীকার করবে, তারা মূলত দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবে।
রোববার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার সামনে একটি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি এলাকার সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব না হলে আজ তাঁর উল্লাপাড়ায় আসা সম্ভব হতো না। গত ১৭ বছর তাঁকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি—সংসদ সদস্য হওয়া তো দূরের কথা। বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তারাও একসময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তারা নিয়মিত আন্দোলন করেছেন। তবে এখন হঠাৎ করে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা হচ্ছে—যা বিস্ময়কর।”
তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমে তিনি শুনেছেন সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলছেন, “গণভোট বলে কিছু নেই।” এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি গণভোট না থাকে, তাহলে তাতে স্বাক্ষর করা হলো কেন? সংশ্লিষ্ট দল তো তাতে সই করেছে। এখন ভিন্ন কথা বলার কারণ কী?” তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে—দেশকে কি আবার জুলাই-পূর্ব অবস্থায় ফেরানোর কোনো ষড়যন্ত্র চলছে?
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই কেবল একটি ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, ৭০ হাজার নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাই এ আন্দোলন নিয়ে কেউ তামাশা করলে তাদের পরিণতি আগের সরকারের মতোই হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এ সময় উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, সেক্রেটারি খায়রুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএআর/
