জরুরি অবস্থার অজুহাতে পবিত্র রমজান মাসে ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
সোমবার (২ মার্চ) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মুসল্লিদের এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব ও জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি। তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত পবিত্র মসজিদের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায় দখলদাররা।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম এবং পুরনো শহর এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মসজিদ থেকে সাধারণ মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মসজিদের ভেতর কেবল প্রহরীরা অবস্থান করছেন। শায়খ সাবরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইবাদতের স্বাধীনতার ওপর এই হস্তক্ষেপ সরাসরি ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করার শামিল। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসল্লি তারাবির নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে জেরুজালেমের পুরনো শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বাব আস-সাহেরা চেকপয়েন্টে কড়া পাহারার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া অন্য সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় জেরুজালেমের সিলওয়ান ও আল-ইসাওইয়া এলাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ায় পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছে।
রমজানের শুরু থেকে যেখানে প্রতিদিন ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লি তারাবিতে অংশ নিতেন, সেখানে এখন পুরো আল-আকসা চত্বর জনশূন্য। একই সাথে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদটিও বন্ধ করে দেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
টিএইচএ/
