আবদুর রউফ আশরাফ :: আমি প্রকৃত একজন কৃষকের ছেলে। ছোটবেলায় বাবার সাথে কৃষি কাজ করেছি। এখনও বাড়িতে গেলে টুকটাক কাজ করার চেষ্টা করি। কী পরিশ্রম! কী হতাশা! কী হাহাকার। একমাত্র যারা কৃষক তারাই কেবল অনুভব করতে পারেন তাদের কষ্ট। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওরের মানুষের কষ্ট লিখে বুঝানো সম্ভব না। সেখানকার মানুষের চোখের পানি আর হৃদয়ের হাহাকারই তাদের কষ্টের ভাষা। জীবনের গল্প।
দীর্ঘ ‘ছয়মাস’ পানির সাথে সংগ্রাম, আর ছয়মাস মাটির সাথে সংগ্রাম করে জীবনযাপন করে আসছে। বর্ষা এলে বন্যার আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ধরে রাখতে পরিশ্রম করেন, বর্ষাকালে অধিকাংশ মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে থাকেন।
কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে কৃষকদের শুরু হয় কাঁদা মাটির সাথে সংগ্রাম, পৌষ-মাঘের শীতকে উপেক্ষা করে কঠিন পরিশ্রম করে কৃষকেরা জমিতে ফসল ফলায়।
অনেক কৃষক আছেন যারা জমিদারদের কাছ থেকে চুক্তিতে জমি নেয়। জমির মূল্য নেয় চড়া। বীজ, সার, পানি সঙ্কটে জমিতে ভালো চাষ হয় না, আর ধানের দাম থাকে স্বল্প, যার দরুণ কৃষকেরা লাভবান হতে পারে না। দেখা যায়, অনেক সময় চৈত্র বৈশাখের ঝড়ে কৃষকদের জমি বিনষ্ট হয়ে যায়, শিলা বৃষ্টির কারণে জমির ধান ঝড়ে যায়, পচে যায়।
ভারি বর্ষণে নদীনালায় উপচে ওঠে পানিতে তলিয়ে যায় হাওর। কৃষকদের শতশত মণ ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়। কৃষকদের শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণ লস হয়। অনেক কৃষক তখন ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য হয়। নদী ভাঙা মানুষ আর ধুয়ে যাওয়া জমিনের মালিকের মন একই। কষ্টের রঙও একই।
মাননীয় সরকার প্রধান কৃষি কার্ড বিতরণ করছেন। তাতেই যেন শেষ না হয়, কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, বিনামূল্যে সার কিংবা স্বল্পমূল্যে দিতে হবে। হাওরের পানির ব্যবস্থা করতে হবে। জলাদ্ধতা দূরীকরণে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরিকল্পিত বাঁধগুলো ভেঙে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত বাঁধ দিতে হবে। যাতে করে কৃষকদের স্বপ্ন ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম পানিতে তলিয়ে না যায়। ধানের দাম বৃদ্ধি করে কৃষকদের মূল্যায়ণ করতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কারণ, কৃষকেরা হলো দেশের মেরুদণ্ড। কৃষকদের অবহেলিত না রেখে যথাযথ মূল্যায়ন করলে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে।
লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক
