বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, গত ২০ বছরে যারা সন্ত্রাস ও বেয়াদবিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তারা একটি আস্ত প্রজন্ম এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর ফলে সমাজে সন্ত্রাস ও মাদকসহ নানা অপরাধ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর সদর উপজেলার চরাঞ্চল করিমপুর কেরামত কামাল বয়েজ হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, যারা প্রজন্ম নষ্ট করার নেপথ্যে ছিল, তাদের সমাজ থেকে উপড়ে ফেলে একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গড়তে হবে। সন্ত্রাস ও মাদকের ব্যাপারে বর্তমান প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করা চলবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, বিশেষ করে সে যদি বিএনপিরও হয়, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা চরাঞ্চলকে এমন এক নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়তে চাই, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ; সবাই গভীর রাতেও এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নির্ভয়ে চলাচল করতে পারবে।
এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের যেখানেই মাদকের আস্তানা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে পুলিশকে জানান। জনগণের পাশে থেকে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ অন্যায় করলে তাকে প্রতিহত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পরামর্শ দেন তিনি। ব্যাপক প্রস্তুতি ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত এই অনুষ্ঠানে ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে মানপত্র পাঠ ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। করিমপুর পাবলিক ইন্সটিটিউটের সভাপতি ফরহাদ হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মুনীর, অধ্যাপক ডা. সোহেলা রহমান, ডা. সুহাগ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নজরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন সরকার এবং আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. কাইয়ুম সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিএমইউ উপাচার্যকে এক বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
টিএইচএ/
