৩৬ নিউজ ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে কলেজশিক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান। সীমান্তে বিনা বিচারে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তিকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন তারা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে মো. মুরসালিন স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং অপরজন নবীর হোসেন। একজন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ নাগরিকদের এভাবে গুলিতে প্রাণ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বারবার কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রতিবাদের পরও এই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার অবসান না হওয়া সীমান্তের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই মূলত বিএসএফকে বারবার একই অপরাধ করতে উৎসাহ জোগাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
পরিশেষে, ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ কসবা সীমান্তে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন এবং দায়ী বিএসএফ সদস্যদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ারও দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
টিএইচএ/
