আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এমন মন্তব্য করেছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ আনেন।
পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সমন্বয়ে হস্তক্ষেপ, তেল নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন করেছে’।
ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ধমক এবং জবরদস্তির দিন শেষ। এতে কোনো লাভ হবে না। আমরা কখনোই নতি স্বীকার করি না।’
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ঐতিহাসিক ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়া এবং বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেল ইরান। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিন উভয় পক্ষের জন্য এটি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস বন্দর, কেশম দ্বীপসহ প্রায় ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই একতরফা যুদ্ধবিরতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে একটি ‘বিপজ্জনক ও অর্থনৈতিকভাবে আত্মঘাতী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। ফলে এই মুহূর্তে বড় কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা খুবই কম, যা বিশ্বকে একটি বড় অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু
