‘জাতীয় সংসদে জামায়াত জোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না’—এমন মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। বর্তমান সংসদে বিএনপির এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সদস্যসংখ্যা ৯০-এরও কম। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের বিজয়ী হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনাও নেই।
মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, ‘এ বিষয়টি বোঝার জন্য জামায়াতের মতো পণ্ডিত মহাশয় হওয়ার প্রয়োজন নেই। জুয়ারিরাও জুয়া খেলে জেনেশুনেই—হার-জিতের ঝুঁকি নিয়েই খেলে। যদি ভাগ্যে লেগে যায়! কিন্তু বর্তমান সংসদের বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের জয়ী হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই। তারপরও নিশ্চিত পরাজয় জেনেই প্রার্থী দেওয়া—এটাকেই বলে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে জাতি একটি বাস্তবমুখী, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল সংসদ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশিত সংসদীয় পরিবেশ কোথায়?’
সরকার গঠনের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘ছাত্র অঙ্গনে উত্তাপ ছড়ানো, সচিবালয় ঘেরাও, হুমকি-ধমকিসহ নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সমন্বয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাগুলোও উদ্বেগের বিষয়। একই সময়ে দিল্লিতে শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের বিষয়টি সামনে আসায় বিদেশি মহলে নতুন কোনো বার্তা যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও জাতির ভাবা স্বাভাবিক।
মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জামায়াত সম্পর্কে জনমনে একটি ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ধারণা তৈরি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।’
