ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিইয়ার খিলজি ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন। বখতিয়ার খিলজি তার এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালা অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন।
মহান সেনাপতি বখতিয়ার খলজির হাত ধরে এ অঞ্চলে উদিত হয়েছিলো আদালতের সূর্য। সে দিনটি বাস্তবিকভাবেই ছিলো মানবতার মুক্তির দিন, মানবতার বিজয়ের দিন, ইনসাফের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন।
যার ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের মানুষেরা প্রায় সাড়ে ছয়শো বছরের নজীরবিহীন, তুলনাহীন অসাধারণ শাসনে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছিলো এবং এ অঞ্চল দুনিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও ধনী অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।
মুসলমানদের আদালত ও আখলাকপূর্ণ এই শাসনের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক মুক্তি, সাংস্কৃতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, পক্ষপাতহীন বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় বাজেটে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে পুনর্জীবিতকরণ সহ অসাধারণ ব্যবস্থাপনা নসিব হয়েছিলো এ অঞ্চলের মজলুম মানুষের ভাগ্যলিপিতে।
বখতিয়ার খিলজির স্মরণে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল-মাহমুদ লিখেছিলেন
আল্লার সেপাই তিনি, দুঃখীদের রাজা।
যেখানে আজান দিতে ভয় পান মোমেনেরা,
আর মানুষ করে মানুষের পূজা,
সেখানেই আসেন তিনি। খিলজীদের শাদা ঘোড়ার সোয়ারি।
দ্যাখো দ্যাখো জালিম পালায় খিড়কি দিয়ে
দ্যাখো, দ্যাখো।
এনএ/
