আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের বিমান হামলায় এক পা হারানো ছয় বছর বয়সী আফগান শিশু সৈয়দ রহমান টানা চার মাস পর কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে প্রথমবারের মতো হাঁটতে শুরু করেছে। এই প্রথম তার জীবনে এক নতুন আশার আলো নিয়ে এলেও এর নেপথ্যে রয়েছে এক বিষাদময় পারিবারিক ট্র্যাজেডি।
পবিত্র রমজান মাসে আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর চালানো বোমা হামলায় চিরতরে বাম পা হারায় ছয় বছর বয়সী শিশু সৈয়দ রহমান। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) পুনর্বাসন কেন্দ্রে দীর্ঘ চিকিৎসা ও কৃত্রিম পা সংযোগের পর সম্প্রতি সে পুনরায় চলাচলের সক্ষমতা ফিরে পায়। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিশু সৈয়দ রহমান জানায়, আমি এখন আবার পা পেয়ে অনেক খুশি।
তবে শিশুটির এই হাসির পেছনে রয়েছে এক স্বজন হারানোর করুণ ইতিহাস। সৈয়দ রহমানের চাচা কালাম খান ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, পরিবারের সবাই যখন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই পর পর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে তাদের পুরো ঘর ধসে পড়ে। এই নৃশংস হামলায় পরিবারের ৩ জন সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন, ১২ জন গুরুতর আহত হন এবং সৈয়দ রহমান ও তার ভাইসহ ৩ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শিশুটি চরম মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তার ফিজিওথেরাপিস্ট আব্দুল জালাল মাকসুদি। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রে ভর্তির সময় ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার কারণে শিশুটি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের নিবিড় মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের পর তার শারীরিক অবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি দেখা গেছে এবং সে ধীরে ধীরে আবার হাঁটতে শিখছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সৈয়দ রহমানের এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউনামা)-এর সাম্প্রতিক চারটি প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৯ মাসে আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অব্যাহত বিমান ও সীমান্ত হামলায় অন্তত ২৩০ জনেরও বেশি আফগান শিশু নিহত বা চিরতরে পঙ্গু হয়েছে, যা প্রমাণ করে এই সীমান্ত সংঘাতের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা।
তথ্যসূত্র: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
