আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নিজের পরিবার বা কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার শ্বশুর গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেল।
রোববার (২৬ জুলাই) ইরানি বার্তাসংস্থা ইসনা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের (নিরাপত্তা) কারণে মোজতবা খামেনি কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন না’।
সর্বোচ্চ নেতা কেমন আছেন কিংবা তার স্বাস্থ্যের হালনাগাদ তথ্য জানেন না উল্লেখ করে আদেল জানান, ‘আশা করি মোজতবা খামেনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। আমি নিয়মিত তার সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করি।’
জামাতার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘মোজতবার স্বভাবে তার পিতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রভাব গভীর। পিতার প্রায় সমস্ত বৈশিষ্ট্য তার স্বভাবে আছে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন মোজতবা।
এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতি দিচ্ছেন, জনসমক্ষে আসেননি বা এখন পর্যন্ত তার বর্তমান কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি। এমনকি বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও জানাজাতেও মোজতবাকে দেখা যায়নি। এতে তার অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং শাসন করার ক্ষমতা এখনও অনেকাংশেই একটি রহস্য হয়ে রয়েছে।
এরআগে কিছু পশ্চিমা ও কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় মোজতবাকে চিকিৎসার জন্য গোপনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির রাজধানী মস্কোতে চিকিসৎসা চলছে। তবে পরবর্তীতে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর অস্বীকার করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোজতবার মস্কোতে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। খামেনির শারীরিক অবস্থা ভালো আছে বলেই উল্লেখ করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে তার একটি পা বা উভয় পা-ই গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে সর্বোচ্চ নেতার আঘাতের মাত্রা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়নি ইরান সরকার।
অন্যদিকে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ দাবি করেছে,সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজ দেশে ইরানে নেই।
একটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত বার্তাগুলো, তার কোনোটিই তিনি নিজে লিখছেন না। ওইসব বার্তা লিখছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি ও বাহিনীর অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। যাতে দেশে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৃত্রিম আবহ তৈরি করা যায়।
তবে তিনি বর্তমানে ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গার নাম বা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে।
সূত্র: আনাদোলু
