গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদকে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করার পর ইসরায়েল ও মিসরের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক্সপ্রেস নিউজ সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চার দিন আগে মিসর সতর্ক করে জানিয়েছিল, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করলে তা তাদের জন্য ‘রেডলাইন ক্রস’ (অগ্রহণযোগ্য সীমা) হবে।
এর জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মিসর গাজার সাধারণ মানুষদের ‘জোর করে বন্দি’ করে রেখেছে, যদিও তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা ছাড়তে চায়।
মিসর নেতানিয়াহুর এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা অভিযোগ তোলে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘গাজার অর্ধেক মানুষ এলাকা ছাড়তে চায়, কিন্তু মিসর তাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয় না। আমরা ফিলিস্তিনিদের বের করে দিতে চাই না, তবে তাদের জোর করে আটকে রাখা কোন ন্যায়বিচার?’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষাকারীরা কোথায়?’
এদিকে, কাতারও নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতারের মতে, এটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সেই নীতি যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা।
তবে ইসরায়েল কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে এবং মানবিক সহায়তা সহজ করছে, কিন্তু হামাস সাধারণ মানুষের ভেতর থেকে যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং সহায়তা দখল করে নিচ্ছে।
২০০৭ সালে হামাস ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসরায়েল ও মিসর গাজার ওপর বিভিন্ন মাত্রায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, এর উদ্দেশ্য অস্ত্র চোরাচালান ঠেকানো। তবে সমালোচকরা একে গাজার ২০ লাখ ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
গত বছরের যুদ্ধে রাফাহ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর মিসর গাজা সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং ছয় মিটার গভীর প্রাচীর, কাঁটাতারের বেড়া, মাটির বাঁধ ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করে। মিসরের শঙ্কা ছিল, ইসরায়েলের নতুন অভিযানের ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের দেশে আশ্রয় নিতে ঢুকে পড়তে পারে।
সূত্র: এক্সপ্রেস নিউজ
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
এআইএল/
